আমিও বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলাম: মোদী

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৫, ২১:২৭
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহা্রি বাজপেয়ীকে দেয়া ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ গ্রহণ করেছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
 
রবিবার সফরের শেষদিন দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ সম্মাননা হস্তান্তর করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সম্মাননা গ্রহণের পর দেয়া বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদী বলেন, অটল বিহারী বাজপেয়ী তার সারা জীবন দেশ ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের জন্য এই মহান নেতাকে বাংলাদেশ আজ সম্মানিত করছে। এটা আমার জন্য এক সৌভাগ্যের মুহূর্ত। ভারতবাসীর জন্যও এক গৌরবের মুহূর্ত। অটল বিহারি বাজপেয়ী যিনি আমার মতো অনেকের জন্য প্রেরণা, এমন ভারতরত্নকে আজ বাংলাদেশ সম্মানিত করছে। তিনি বলেন, যে স্বপ্নের জন্য গৌরবময় লড়াই আপনারা লড়েছিলেন, যা কোটি ভারতীয় হৃদয় থেকে চেয়েছিল, ওই স্বপ্নের বাস্তবায়ন আমিও চেয়েছিলাম।
 
নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বিরোধী রাজনীতিতে থেকেও অটল বিহারী বাজপেয়ী বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য কাজ করেছেন। তাকে সম্মাননা দেয়াটা আমাদের কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, বাজপেয়ীর যোগ্য উত্তরসূরি এবং বাংলাদেশের আরেক বন্ধু নরেন্দ্র মোদীর কাছে সম্মাননাস্মারক হস্তান্তর করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। মন্ত্রীপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভুইয়া অটল বিহারীকে দেয়া সম্মাননা স্মারক পাঠ করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত এবং রাষ্ট্রপতির দেয়া মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নিতে দুপুর সাড়ে ১২ টার কিছু পরে নরেন্দ্র মোদী বঙ্গভবনে পৌঁছান। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মোদীকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন মোদী।
 
অসুস্থ অটল বিহারি বাজপেয়ীর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণের পর দেয়া বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদী বলেন, একটি কথা, হয়তো আমি আগে কখনো বলিনি। আজ বলতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি। অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ভারতীয় জনসংঘ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে যে সত্যাগ্রহ করেছিল, একজন স্বেচ্ছাসেবক যুবকর্মী হিসেবে ওই সত্যগ্রহে যোগ দিতে আমি গ্রাম থেকে দিল্লি এসেছিলাম। বাজপেয়ী নিজে উপস্থিত হয়ে এই সম্মাননা নিতে পারলে আরো ভালো হতে পারত। তিনি আশা করেন অটল বিহারি বাজপেয়ী শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং সবাইকে নির্দেশনা দেবেন।
 
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বরে ভারতীয় পার্লামেন্টে তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে অটল বিহারি বাজপেয়ীর দেয়া বক্তব্য তুলে ধরে মোদী বলেন, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়, তা ওই বক্তব্যে বোঝা যায়। বাজপেয়ী বলেছিলেন, দেরিতে হলেও, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমাদের সামনে ইতিহাস বদলের প্রক্রিয়া চলছে। নিয়তি এই সংসদ এবং দেশকে এমন মহান কাজে রেখেছে, যেখানে আমরা শুধু মুক্তিসংগ্রামে জীবন দিচ্ছি না বরং ইতিহাসকে একটি পরিণতির দিকে নিতে চেষ্টা করছি। বাংলাদেশে নিজেদের সংগ্রামের জন্য লড়াই করা মানুষ এবং আমাদের রক্ত একসাথে বইছে। এই রক্ত এমন সম্পর্ক তৈরি করবে যা কোনোভাবে ভাঙবে না। কোনো ধরনের কূটনীতির শিকার হবে না।
 
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত ঝরেছে। ভারতের জনগণও তাদের পাশাপাশি লড়াই করেছে। তারা বাংলাদেশের স্বপ্নকে বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, আজ এই পবিত্র মুহূর্তে আমাদের এই সংকল্প করতে হবে যেন এ সম্পর্ক অটুট থাকে। বাজপেয়ীর সম্পর্কের বার্তা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
 
নরেন্দ্র মোদী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, যিনি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা, তার হাত থেকে এ সম্মাননা নিচ্ছি। এটাই অনেক গৌরবের। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে এবং বাংলাদেশ জয়ী হয়েছে, তার মেয়ের উপস্থিতিতে এ সম্মান দেয়া হচ্ছে।
মোদী বলেন, যুদ্ধে জয়ের গৌরব বাংলাদেশের মানুষের। ভারতীয়রাও চাইতো এ স্বপ্ন সত্যি হোক।