দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে গতকাল রবিবার রাতে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর এই সফরে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক আরো বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে। দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে ঝুলে থাকা দুই দেশের স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের দলিলপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে মোদীর এই সফরে। এই চুক্তি শিগগিরই বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মোদীর সফরের শেষদিনে ঘোষিত যৌথ ইশতেহারে এ তাগিদ দেয়া হয়েছে। যৌথ ইশতেহারে দুই প্রধানমন্ত্রী ছিটমহলের বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষার করারও ঘোষণা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত মাসে ভারতের পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হয়। এ পদক্ষেপের গুরুত্বকে নরেন্দ্র মোদী বার্লিন প্রাচীরের পতনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকের পর প্রস্তুতকৃত ইশতেহারে শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে, হিমালয় অববাহিকায় আন্তঃনদী সংযোগের বিষয়ে ভারতীয় পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তিনি আগেও বলেছেন, ভারত এককভাবে এমন কোনো সীমান্ত নেবে না যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়েও তিনি একই আশ্বাস দিয়েছেন। দুই প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুত্, পানি সম্পদ, বাণিজ্য, ট্রানজিট ও সংযোগ খাতে পারস্পারিক স্বার্থের ভিত্তিতে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার সুবিধা গ্রহণে একমত হয়েছেন।
মোদীর সফরে দুই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাস্তবভিত্তিক, পূর্ণাঙ্গ এবং এক নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে।
নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অতুলনীয় সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রীই। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আপোষহীন অবস্থানের অঙ্গীকার করেছেন তাঁরা। সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশ তথ্য সহযোগিতা বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একইসঙ্গে একে-অন্যের দেশের মাটি সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের সুযোগ না দেয়ারও অঙ্গীকার করেছেন।
দুই প্রধানমন্ত্রী কার্যকরভাবে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একমত হয়েছেন। একইসঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, অনিয়মিত চলাচল, সহিংসতা ও প্রাণহানী বন্ধে জোর দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গঙ্গা ব্যারেজের যৌথ উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেছেন।এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদী তাকে আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তার পানি বণ্টন বিষয়ে অন্তঃবর্তীকালীন চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য মোদীকে অনুরোধ করেছেন। দ্রুততম সময়ে তিস্তা ও ফেনী নদীর অন্তঃবতীকালীন চুক্তি হবে বলে নরেন্দ্র মোদী আশ্বস্ত করেছেন।
বিদ্যুত্ খাতে ভারত সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। বর্তমানে ভারত থেকে আসা ৫০০ মেগাওয়াটকে ১ হাজার মেগাওাটে উন্নীত করা হবে বলে মোদী জানিয়েছেন। দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে একমত পোষণ করেছেন। দুই পক্ষই বাণিজ্যের ভারসাম্য কমিয়ে আনার উপর জোর দিয়েছে। ভারত বাংলাদেকে আরো ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঋণের অর্থ বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। দুই দেশ পিপল-টু-পিপল যোগাযোগ বৃদ্ধিতে একমত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হবে।