ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শনে মোদী

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৫, ০০:৪৫

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল রবিবার তার সফরের দ্বিতীয় ও শেষ দিন কর্মব্যস্ত সময় পার করেছেন। গতকাল সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিন শুরু করেন তিনি। এরপর যান রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শনে। সেখান থেকে যান বারিধারায়। এরপর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের নবনির্মিত চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করেন। তিনি সেখানে ভারত সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশে ৬টি প্রকল্পের জন্য ভিত্তিপ্রস্তরও উন্মোচন করেন।

 
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন: বাসস’র খবরে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদী গতকাল সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে যান। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন এবং স্থানীয় এমপি হাজী মো. সেলিম মন্দিরের গেটে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। এসময় মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক এবং সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি উপস্থিত ছিলেন। সাদা কোর্তা এবং পায়জামা পরিহিত সৌম্য-দর্শন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের মূল বেদিতে প্রবেশের সাথে সাথে শঙ্খ, ঢাকঢোলের বাদ্য বাজিয়ে এবং উলুধ্বনি দিয়ে তাকে বরণ করে নেয়া হয়।
 
নরেন্দ্র মোদী মন্দিরে প্রবেশ করে দেবি দুর্গার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় মন্দিরের প্রধান সেবাইয়েত প্রদীপ চক্রবর্তী তার সাথে ছিলেন। পরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেবী দুর্গার প্রতিকৃতি সম্বলিত ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত নরেন্দ্র মোদীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। 
 
ভারতের প্রধানমন্ত্রী সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সবার সাথে করমর্দন করেন। পরে তিনি মন্দিরে অবস্থিত শিব মন্দির পরিদর্শন করেন এবং ছবি তোলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণাদাস গুপ্ত, পূজা উদযাপন কমিটির নেতা কাজল দেবনাথ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সাহা, ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, অ্যাডভোকেট তাপস পাল প্রমুখ।
 
রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন
 
ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে নরেন্দ্র মোদী ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনে যান। সেখানে তিনি শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নেন এবং শান্তি ও অহিংসার জন্য প্রার্থনা করেন। ‘ভগবান আমাদের সবাইকে শান্তিতে রাখুন, সকলকে সুরক্ষা দিন এবং আমাদের আত্মাকে পবিত্র করুন যাতে আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারি ও একে অপরের প্রতি কখনো যেন নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন না করি’ মোদী এই মন্ত্র উচ্চারণ ও প্রার্থনায় অংশ নেন।
 
সকাল ৯টা পাঁচ মিনিটে মিশনে পৌঁছান নরেন্দ্র মোদী। রামকৃষ্ণ মিশনের (বেলুড় মঠ) সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুহিতানন্দ ও ঢাকা মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ এ সময় তাকে স্বাগত জানান। মিশন প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছলে বৈদিক মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে অতিথিকে স্বাগত জানানো হয়। গাড়ি থেকে নেমে আসার পর তার কপালে চন্দনের তিলক এবং মাথায় ধান দূর্বা দিয়ে তাকে বরণ করে নেয়া হয়। তিনটি শিশু এসময় অতিথিকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী রামকৃষ্ণ, সারদা দেবি, স্বামী বিবেকানন্দের মর্মরমূর্তি ও প্রতিকৃতিতে এবং শিবলিঙ্গে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তিনি কর্পূর জ্বালিয়ে কিছুক্ষণ আরতি এবং মিশনের মন্দিরে অর্ঘ্য প্রদান করেন। ঢাকা মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বস্ত্র ও গেরুয়া রং-এর উত্তরীয় প্রদান করেন। এ সময় নরেন্দ্র মোদীর মায়ের জন্য প্রসাদি কাপড়ও উপহার হিসেবে দেয়া হয়। এছাড়া মিশনের অধ্যক্ষ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এবং শতবর্ষী রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল-এর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও গুজরাটি ভাষায় লেখায় ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং স্বামী বিবেকানন্দের জীবনীচরিত গ্রন্থ উপহার দেন।
 
পরে নরেন্দ্র মোদী লালগালিচা দিয়ে হেঁটে ভক্তদের কাছে যান এবং তাদের সাথে কুশল বিনিময় এবং সবার সাথে করমর্দন করেন। তিনি মিশনের প্রবীণ সাধুদের সাথেও কুশল বিনিময় করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সন্যাসীদের সাথে কুশল বিনিময় শেষে ফটো সেশনে অংশ নেন। এছাড়াও এককভাবে তিনি সারদা দেবির প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তিনি রামকৃষ্ণ মিশন ত্যাগ করেন।
 
চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন
 

গতকাল নরেন্দ্র মোদী বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের নবনির্মিত চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করেন। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে মোদী এখানে পৌঁছান। তিনি সেখানে ভারত সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশে ৬টি প্রকল্পের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন। প্রকল্পগুলো হলো টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল, অন্ধ শিক্ষা ও পুনর্বাসন উন্নয়ন কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে হিন্দি বিভাগ প্রতিষ্ঠা, সংগীত বিভাগে রেকর্ডিং স্টুডিও এবং নৃত্যকলা বিভাগে সহযোগিতা প্রকল্প এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী গার্লস হোস্টেল। তিনি ন্যাশনাল ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশনের নেতাদের কাছে দু’টি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন। মোদী পরে কমপ্লেক্স চত্বরে একটি বকুল চারা রোপণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে ছবি তোলেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ এবং দূতাবাসের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।