সাত খুন মামলার চার্জশিট: ‘না রাজী’ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৫, ১১:২৮
 
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের একটি মামলার এজাহার থেকে আওয়ামী লীগের নেতাসহ পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়ায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির ‘না রাজী’ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের একটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানিতে বিউটির পক্ষের আইনজীবি ব্যাপক যুক্তিতর্ক তুলে ধরলেও রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধীতা করেন। অভিযুক্ত সাবেক র্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানাসহ ৩৫ আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আদালত আগামী ৮ জুলাই আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।
 
নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম শফিকুল ইসলামের আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে এদিনও তারেক সাঈদ, এম এম রানা ও আরিফ হোসেনকে হ্যান্ডকাপ ছাড়া আনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিউটির লোকজন ও আইনজীবীরা।
 
গত ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দুটি মামলার অভিন্ন চার্জশিটে ভারতের কলকাতায় গ্রেপ্তারকৃত সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ র্যাবের চাকুরিচ্যুত তিনজন আলোচিত কর্মকর্তাসহ ৩৫জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে বিউটির মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে। যাদের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারি হাজী ইয়াছিন মিয়া রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ১১ মে আদালতে সেলিনা ইসলাম বিউটি চার্জশিটের বিরুদ্ধে ‘না রাজী’ আবেদন করেন।
 
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিউটির মামলার আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিট ও এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে অব্যাহতি দেয়ায় না রাজী দেয়া হয়েছে। আমরা না রাজীর পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেছি। 
 
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্তি পিপি ফজলুর রহমান জানান, সাত খুনের ঘটনায় নিহত চন্দন সরকারের পরিবার চার্জশিটে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশে সেলিনা ইসলাম বিউটির ‘না রাজী’ আবেদন হয়ে থাকলে সেটা বাতিলের আবেদন করেছি। আগামী ৮ জুলাই আদালত পরবর্তী শুনানি ও আদেশ প্রদানের দিন ধার্য্য করেছেন।
 
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল-ায় খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহূত হন। ৩০ এপ্রিল বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।