বাংলাদেশের সঙ্গে শক্ত বন্ধনে ভারত

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৫, ২৩:৩৬

দুই দিনের ঐতিহাসিক ঢাকা সফর শেষে গত রবিবার দেশে ফিরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গন ছিলো সরগরম। নরেন্দ্র মোদীর এই রাষ্ট্রীয় সফর বিস্তর গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে। দীর্ঘ ৪১ বছর পর দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে নরেন্দ্র মোদীর এই সফর ফলাও করে প্রচার করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোও। ভারতের বিশ্বস্ত বন্ধু বাংলাদেশের সঙ্গে শক্ত বন্ধনের পক্ষেই সমর্থন করেছে তারা। অনেক পত্রিকার মূল খবর ও প্রথম পাতার খবর ছিলো মোদীর সফর। গুরুত্বপূর্ণ অনেক পত্রিকায় সম্পাদকীয়ও লেখা হয়েছে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মোদীর বিশেষ মনোযোগের প্রশংসা করেছে সংবাদপত্রগুলো। আর স্থল সীমান্ত চুক্তিকে ‘বিশাল অর্জন’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরির পথ খুলবে। বিবিসির এক সংবাদ বিশ্লেষণীতে এ কথা বলা হয়েছে।

 
ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দু মোদীর প্রশংসা করে বলেছে, তাঁর প্রচেষ্টায় ভারতের সকল রাজনৈতিক দল ও পক্ষ বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝতে সমর্থ হয়েছে। ভারত জুড়ে মতৈক্য তৈরির বিষয়টি বাংলাদেশের নজর এড়ায়নি। যেখানে নরেন্দ্র মোদীকে একজন ‘প্রকৃত বন্ধু’ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে বলা হয়, বেশিরভাগ মূল ধারার গণমাধ্যম এই চুক্তির পক্ষে যে সংবাদ ও মন্তব্য প্রকাশ করেছে তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়।
 
ঢাকা সফরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে সঙ্গে নেয়ার যে সিদ্ধান্ত মোদী নিয়েছিলেন, তাকে ভারতের বেশিরভাগ পত্রিকা ‘রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব সমপর্কে মমতাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে মোদীর দল। তারা মমতাকে এটাও বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, এর স্বার্থের বিপক্ষে গেলে তিনি কীভাবে নিজের নিশ্চিত পরিণতি ডেকে আনবেন।
 
তবে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সবকিছুর জন্য মোদীর পাশাপাশি সমান কৃতিত্ব দিয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও। এক সমপাদকীয়তে পত্রিকাটি লিখেছে, অবশ্যই, ভারতের যে সংকল্পবদ্ধ অংশীদার রয়েছে, তা শেখ হাসিনার সরকারই সম্ভব করেছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অকুণ্ঠ সহযোগিতা ও চিরাচরিত ধারার বাইরে তার কাজ করার প্রস্তুতিই ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সত্যিকার অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার চাবিকাঠি।
 
কয়েকটি পত্রিকা ‘ভারত-বিরোধী কর্মকাণ্ড’ চালানোর জন্য জঙ্গিদের বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করতে না দেয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিকেও বড় করে তুলে ধরেছে। দ্য এশিয়ান এইজ বলেছে, হাসিনা সরকার ভারতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ। এছাড়া তার সরকার সন্ত্রাসবাদ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয়সহ ভারতের বিভিন্ন উদ্বেগ দ্রুততার সঙ্গে নিরসন করেছে। ভারতীয় পত্রিকাগুলো স্থল সীমান্ত চুক্তি ও বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়েও প্রশংসা করেছে। তবে কেউ কেউ বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্বকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
 
ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, অনেকদিন ধরে পাকিস্তানের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে বেশ তপ্ত সম্পর্কে জড়িয়ে আছে ভারত। কিন্তু এখন পূর্বদিকে কাজে লাগানোর জন্য বহুমুখী সুযোগ রয়েছে। পত্রিকাটি আরো বলেছে, যদি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশ ভারতের ভূ-সেতুতে পরিণত হয়, তাহলে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো ভগ্ন অর্থনীতিতে আবারো প্রাণসঞ্চার করা যাবে। দুই দেশ নতুন বাস সেবা চালু করেছে, যা উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।
 

টাইমস অব ইন্ডিয়া উপসংহার টেনেছে এই বলে যে, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট ভারতকে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আরো কাছে টানতে সাহায্য করবে। ঐ অঞ্চলের কিছু সমস্যার সমাধানও সম্ভব হবে। এছাড়া বাংলাদেশও ভারত হয়ে ভুটান ও নেপালের বাজারে প্রবেশাধিকার পাবে।