প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের মধ্যদিয়ে দু’দেশের মধ্যে বিশ্বাসের যে বন্ধন সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যারও সমাধান হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন বলে জানা গেছে। এদিকে মন্ত্রিসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুই দিনের বাংলাদেশ সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রয়াসের জন্য তাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে এক প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, আন্তরিকতা, নেতৃত্ব, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ় অঙ্গীকারের কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফল সফর অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে মোটর যান চলাচলের চুক্তির এক খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এই চার দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করতে পারবে। আগামী ১৫ জুন ভুটানে অনুষ্ঠিতব্য পরিবহন মন্ত্রীদের বৈঠকে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, এই চার দেশের অনাপত্তির ভিত্তিতে আগামীতে অন্য কোন দেশকে এ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। চুক্তিটি প্রতি ৩ বছর বা এর আগেও নবায়নের বিধান রয়েছে। কোন দেশ ইচ্ছা করলে ৬ মাসের সময় দিয়ে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রটোকল অনুমোদনের পর এটি কার্যকর হবে। তবে সব দেশ একমত থাকলে প্রটোকল চূড়ান্ত করতে সময় লাগবে না। তিনি বলেন, চুক্তিতে কয়েকটি বিষয় থাকবে। যেমন, যান চলাচলে রুট পারমিট নিতে হবে। আবার এক দেশের গাড়ি আরেক দেশের ভেতর দিয়ে গেলেও মাঝপথে যাত্রী নেয়া যাবে না। যানবাহন চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে। যে দেশের ভেতর দিয়ে যানবাহন যাবে, সেই দেশ ফি ঠিক করবে। এছাড়া যে দেশে যে পণ্য নিষিদ্ধ, সে দেশের ভেতর দিয়ে সেই সব পণ্য বহন করা যাবে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নরেন্দ্র মোদীর সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি ও প্রটোকল স্বাক্ষর হয়েছে, যা ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে খুবই ঘটনাবহুল ও কর্মবহুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পেছনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিশাল অবদান রয়েছে।
সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্য বক্তব্যে বলেন, যে চুক্তি অনুমোদন হলো, এটা অনেক অর্জন, অনেক বড় ঘটনা। এটা যদি কোনো ধনী দেশে হতো, তাহলে এর জন্য নোবেল পুরস্কার নিয়ে আলোচনা হতো। কিন্তু আমরা গরীব দেশ, এটা নিয়ে আলোচনা হবে না। মোদীর এ প্রসঙ্গ নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ঠিকই বলেছেন। ধনী দেশ হলে নোবেল পুরস্কার নিয়ে আলোচনা হতো। বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা।
বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে মোদী যে প্রশংসা করেছে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশের মানুষের উন্নয়ন চাই, সেবা করতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। এ কারণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১/১১’র হোতারা আমাকে বলেছিলেন, তারা আমাকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেবেন। আমার তো কোনো সুযোগ-সুবিধার দরকার নেই। আমার এমনিতেই সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। দেশের মানুষের সেবা করতে চাই, আমি নির্বাচন চাই। এটাই বলেছিলাম। সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক হচ্ছে না বলে গত শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। কিন্তু রবিবার বিকালে মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। এতে গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে সমালোচনার মুখে পড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে উত্থাপন করা সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫ ফেরত পাঠানো হয়। এতে তাদের রাস্তার পাশের জমি সকল মন্ত্রণালয়ের জন্য ব্যবহারের সমন্বিত নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয় হয়।
এছাড়া বৈঠকে ডব্লিউটিও’র এগ্রিমেন্ট অন ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পরবর্তী সময় পেশ করতে বলা হয়। এতে ডব্লিউটিও’র কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়। মন্ত্রিসভা সামরিক শাসনামলে জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ (সংশোধনী) একত্রিত করে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষ ‘নৌবাহিনী (সংশোধনী) আইন-২০১৫’র খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয়।