ব্যাটিং উইকেটের অপেক্ষায়

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৫, ১০:১০
 
আর যেই হোক, শাহরিয়ার নাফীস ও মোহাম্মদ রফিক এই ফতুল্লাকে ভুলতে পারবেন না। ভুলতে পারবেন না, কী এক সোনালি ইতিহাসের স্বপ্ন রচেছিলেন এই মাঠে তারা।
 
ম্যাথু হেইডেন, রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, শেন ওয়ার্ন, ব্রেট লি, স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল; ভিনগ্রহের এক ক্রিকেট দল ছিলো যেন অস্ট্রেলিয়া। সেই অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে পেছনে ফেললো ১৫৮ রানে! সেই অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ জিতলো জীবন-প্রাণ দিয়ে তবে!
 
মুলতান আর ফতুল্লা; বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাস যেমন গর্ব, তেমনই আফসোসের নাম। তবে এবার আফসোসটা ঘোচাতে চায় বাংলাদেশ। এবার অন্তত সেই লড়াই করে, হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়তে চায় সেই সময় জাতীয় দল থেকে অনেক দূরে থাকা আজকের বাংলাদেশ তারকারা। আর সে জন্য ফতুল্লায় ব্যাটিং উইকেট দরকার বলেই অন্তত মনে করে টিম ম্যানেজমেন্ট।
 
না, পরিষ্কার করে ব্যাটিং উইকেটের কথা কেউ বলেননি। তবে হাবেভাবে গত ক’দিন ধরেই দলের থিংকট্যাংক বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটিতে না-হারাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
 
আর সে জন্য ব্যাটিং প্রধান বাংলাদেশের জন্য ব্যাটিং উইকেটই আশা করছে দল।
 
বাংলাদেশের ১৪ জনের স্কোয়াডে বেশিরভাগই ব্যাটসম্যান! এদের মধ্যে ২ জন পেস বোলিং অলরাউন্ডার ও ২ জন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার আছেন। এর মধ্যে সাকিব ছাড়া বাকি তিন ক্রিকেটার শুভাগত হোম, সৌম্য সরকার ও আবুল হাসান টেস্টে অলরাউন্ডার হিসেবে এখনো নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি। তারপরও দলের শক্তি যেহেতু ব্যাটিং, সেহেতু ফতুল্লায় ব্যাটিং উইকেটই বানাতে বলা হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে।

 

২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৯-১৩ এপ্রিল, ফতুল্লায়। তীব্র লড়াই করে পঞ্চম দিনে হেরেছিল বাংলাদেশ। অথচ টেস্টটিতে জেতার মতো অবস্থায় ছিল টাইগাররা। ১৫৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশ। গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪৮ রানে। অস্ট্রেলিয়ার টার্গেট দাঁঁড়ায় ৩০৭ রানের। সেই রান টপকে যায় অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের সেঞ্চুরিতে। পন্টিং অপরাজিত থাকেন ১১৮ রানে। অধিনায়কের সেঞ্চুরিতে হারা ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া জিতে যায় ৩ উইকেটে।

 

ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর শফিউল আলম বেলাল হলেও ভারতের বিপক্ষে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের উইকেট তৈরির কাজ তদারকি করছেন বিসিবির কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা।

 

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, টিম ম্যানেজমেন্ট ব্যাটিং উইকেট চেয়েছে। যেখানে বল খুব বেশি মুভমেন্ট করবে না। উইকেটে হালকা ঘাস থাকবে। যাতে করে উইকেটে ফাটল কম ধরে।

 

৯ বছর আগে ফতুল্লায় একমাত্র টেস্ট ম্যাচ হয়েছিল। ওই টেস্ট ৫ দিন গড়িয়েছিল। ৯ বছর পর ফতুল্লার উইকেট কেমন পরিবর্তন হয়েছে এমন প্রশ্নে বেলাল বলেছেন, ‘৯ বছরে অনেক পার্থক্য। ওই সময় এক ধরনের উইকেট ছিল। এখন আরেক ধরনের। মাঠটাকে পুরোপুরি পাল্টে ফেলা হয়েছে। ড্রেজিং করানো হয়েছে। আগে ১১টা উইকেট ছিল। এখন ৭টা উইকেট এখানে। ২০১১ বিশ্বকাপের আগেই আসলে পুরো মাঠটি সংস্কার করা হয়। সুতরাং ২০০৬ সালে যেমনটা ছিল তেমন কিছুই নেই এখানে।’

 

তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘যেহেতু ২০০৬ সালে পঞ্চম দিনেও ফাটেনি। আশা করছি এবার তেমন কিছুই হবে।’

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে যে রকম উইকেট ছিল সে রকম উইকেট হবে কিনা এ প্রশ্নে গামিনির কোর্টে বল ফেললেও তিনি অবশ্য বলেছেন, ‘টেস্টে বল ব্যাটে আসবে। আইসিসির একটা দিকনির্দেশনা থাকে। স্পোর্টিং উইকেট হতে হবে। ওই মোতাবেকই হয়তো উইকেট করা হয়েছে।’

 

আবহাওয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৯ ও ১০ জুন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য ফতুল্লা সংস্কার করানোর পর আউট ফিল্ডের অবস্থা খুবই ভাল। তারপরও বৃষ্টি হওয়ার পর থেমে গেলে মাঠে খেলা গড়ানোর কতটুকু সম্ভাবনা থাকে এটা একটি বড় প্রশ্ন। এই বিষয়ে বেলাল বলেছেন, ‘বৃষ্টি হলেও কোনো সমস্যা হবে না। ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই ম্যাচ শুরু করা যাবে। নতুন ড্রেনেজ সিস্টেমের কারণে বৃষ্টি কোনো সমস্যা নয়।’ উল্লেখ্য, গত এক বছরে এক শ’র উপরে ম্যাচ হয়েছে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে। প্রিমিয়ার লিগ (২৮), জাতীয় ক্রিকেট লিগ (২৮), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (২), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে (৪টি)। এ ছাড়া জিম্বাবুয়ে দল ও বিশ্বকাপের আগে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচও হয়েছে এখানে। তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট।