ভারতের শর্ত কি মানতে পারবে বিএনপি!

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৫, ২৩:৫২

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাত্ নিয়ে বহুমাত্রায় আলোচনা চলছে বিএনপিতে। হচ্ছে নানা বিশ্লেষণ, হিসাব-নিকাশ। মোদীর কাছে বেগম জিয়ার চাওয়াটা কি, তা স্পস্ট। তবে মোদী কি বলেছেন তা নিয়ে মুখ খুলছেন না বেগম খালেদা জিয়া। ভারতীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক বেগম জিয়ার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘মোদী কি বার্তা দিয়ে গেলেন?’ সরাসরি কোন জবাব দেননি বেগম জিয়া। শুধু স্মিত হেসে বলেছেন, ‘অপেক্ষা করুন। জানতে পারবেন।’ বেগম জিয়ার ঘনিষ্টরা বলছেন, মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর থেকে তার মধ্যে যে ক্লান্তি, অনিশ্চয়তার হতাশা ভর করেছিলো তা কেটে গেছে। তাকে বেশ নির্ভার মনে হচ্ছে।

 
মোদীর সঙ্গে সাক্ষাত্কালে বেগম জিয়ার সঙ্গে যোগদানকারী বিএনপি নেতাদের একজন ইত্তেফাককে বলেছেন, এই বৈঠকে অনেক কিছু পরিস্কার হয়েছে দুই পক্ষের কাছে। বিজেপির সঙ্গে বিএনপির সখ্য বাড়বে। এতো দিনের গুমোট পরিবেশ কাটতে সহায়তা করবে। তবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে যে শর্ত দিয়েছেন তা পূরন করা কঠিন হবে। বিএনপির এই নেতার ভাষ্যমতে, ভারত চায় বিএনপি জামায়াতকে পুরোপুরি ত্যাগ করুক। মোদী খালেদা জিয়াকে বলেছেন, জামায়াত, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। ভারত গণতন্ত্রের সমর্থক এবং মৌলবাদ ও সন্ত্রাসের বিরোধী।
 
বিএনপির এই নেতা জানান, বেগম জিয়া নরেন্দ্র মোদীকে বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে আমাদের (বিএনপির) কোন আদর্শিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তারা জোটে আছে আন্দোলন এবং নির্বাচন কেন্দ্রিক পার্টনার হিসাবে। খালেদা জিয়া মোদীকে আরো জানিয়েছেন, তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন  তখন সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করেছেন। বিএনপি সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালেই বাংলা ভাইসহ অন্যান্য জঙ্গিদের ধরা হয়।
 
মোদীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন তিনজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিএনপির বিরুদ্ধে ভারত বিরোধিতার অভিযোগ, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কথা হয় শুরুতে। একইসঙ্গে বৈঠকে বিএনপির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়ার বিষয়েও কথা হয়।
 
বিএনপির এই নেতাদের ভাষ্যমতে, বৈঠকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বাপর পরিস্থিতি সম্পর্কে মোদীকে বিস্তারিত জানানো হয়। তিন সিটি নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে বলা হয়। মোদী শুনেছেন বেশি, বলেছেন কম। খালেদা জিয়া একটি লিখিত বক্তব্যও মোদীর হাতে দেন। বেগম জিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং নির্বাচনের ব্যাপারে মোদীর হস্তক্ষেপ চান। লিখিত বক্তব্যে  দেশে গণতন্ত্র নেই বলে মোদীর কাছে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, চেয়ারপারসনের সঙ্গে ১৫ মিনিট একান্তে কথা হয়েছে মোদীর আগ্রহেই। সেখানে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এটুকু জানি।
 
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মোদীর সাথে বেগম জিয়ার নির্বাচন নিয়েই মূলত কথা হয়েছে। কারণ নির্বাচনই এখন মূল ইস্যু।
 
এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, মোদীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর ‘খুব সুন্দর আলোচনা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে তা ডিসক্লোজ না করাটাই কুটনৈতিক শিষ্টাচার। সময় বলে দেবে সবকিছু। তবে যেটুকু শুনেছি তাতে মনে হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতির একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মাহবুবুর রহমান বলেন, এ দেশের গণতন্ত্র এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভারতের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রয়েছে। আমাদের চেয়ারপারসন নিশ্চয়ই একটি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, যে কথাবার্তা হয়েছে তাতে মনে হয় ভবিষ্যতে বিজেপির সঙ্গে বিএনপির গভীর সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।
 
ভারতকে পাশে পেতে বিএনপি জামায়াতকে ছাড়বে কিনা এমন প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান বলেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকি ভারতেও জঙ্গিবাদ উত্থানের ঘটনা ঘটছে। তাই নরেন্দ্র মোদীর একটি সার্বজনীন বক্তব্য দিয়েছেন। আমরাও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। বিএনপি জামায়াতকে ছাড়বে কিনা সেটা সময় বলে দেবে।
 
স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, আমি যতকুটু শুনেছি, গণতন্ত্র, নিবার্চনসহ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।
 
যে কোনো ইস্যু নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বিএনপি
 
গতকাল মঙ্গলবাব নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক  ও দলটির বর্তমান মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, যে কোনো ইস্যু নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছে বিএনপি। তিনি বলেন, বহির্বিশ্ব চায় বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসুক। আলোচনার মাধ্যমেই এই দুটি বড় রাজনৈতিক দল দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিএনপি বার বার সরকারকে আলোচনার জন্য আহ্বানও জানিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা বিএনপির সেই আহ্বানে ছাড়া দেয়নি।
 

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ আমরা পছন্দ করি না এবং বিএনপি অভিযোগ ও নালিশের রাজনীতিও করে না।