১১১ ছিটমহল আসছে উন্নয়নের আওতায়

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৫, ২৩:৫৮

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ছিটমহলের অবকাঠামো ও জীবন-মান উন্নয়নে সরকার আগেভাগেই কর্মসূচি প্রণয়ন করছে। একইসঙ্গে ছিটমহলগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ও ভারতীয় ভূ-খণ্ডে থাকা উভয় দেশের মালিকানাধীন ছিটমহলের বিনিময় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। বিনিময়ের পরপরই বাংলাদেশের হতে যাওয়া ছিটমহলগুলোর উন্নয়নে কাজ শুরু করবে সরকার।

 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এতে সভাপতিত্ব করবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ বৈঠক হবে। এতে ছিটমহল ও এদের বাসিন্দাদের সামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
 
সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সামাজিক উন্নয়নে মূলত পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় করে থাকেন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কোন নতুন থানা বা পুলিশ ফাঁড়ির প্রয়োজন আছে কি না তা যাচাই করছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান জানান। বিদ্যুত্ বিভাগ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে নতুন লাইনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে বলেছে। 
 
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব এম এ কাদের সরকার গতকাল ইত্তেফাককে জানান, ছিটমহলের মানুষকে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের আওতায় আনা, গাভী ক্রয়ে সহায়তা দেয়া, বিদ্যুত্হীনদের সৌর প্যানেল সরবরাহ, সমিতি গঠন করে তাদের স্বাবলম্বী করার মতো পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক জানান, পুরো এলাকার অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বাজেট হাতে রাখা হয়েছে। ছিটমহল হস্তান্তর হবার সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল জানান, কতজন মানুষ বা পরিবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকছেন সেটি জরিপ করা হবে ৩১ জুলাইয়ের পর। তখন এ মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন ভাতা যেমন— বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, খয়রাতি সহায়তা, ঘরের জন্য টিন ইত্যাদি বরাদ্দ করা হবে। এ বিষয়ে একটি সম্ভাব্য বাজেট হাতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করছে সেখানে স্কুল-কলেজের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি।
 
প্রসঙ্গত, স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি (মোট আয়তন ৭১১০ একর) ছিটমহলের মালিকানা পাচ্ছে ভারত। একইভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি (মোট আয়তন ১৭১৬০ একর) ছিটমহলের মালিকানা পাচ্ছে বাংলাদেশ।
 

গত ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময়ে স্থল সীমান্ত চুক্তির অনুস্বাক্ষরিত দলিল বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময় হয়েছে। গত সোমবার উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী ৩১ জুলাই থেকে ছিটমহল বিনিময় শুরু হবে।