চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট গ্রাহকদের ভোগান্তি

আপডেট : ১০ জুন ২০১৫, ১৪:০৫

চট্টগ্রামে কয়েকদিন ধরে অব্যাহত গ্যাস সংকটে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত শনিবার থেকে এই গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। জানা গেছে, স্বাভাবিকের চেয়ে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতায় গ্যাস উত্পাদন কমে গেছে। তার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামে। জটিলতা কবে নিরসন হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা। এর ফলে গ্যাস প্রাপ্তি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উত্কণ্ঠা বাড়ছে।

 
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জানা গেছে, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৩টি বৃহত্ বিদ্যুত্ কেন্দ্রসহ কয়েকটি ভারী শিল্প কারখানা গ্যাস স্বল্পতায় বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে আবাসিক ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় গ্যাস সংকট জনজীবনে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। রান্নার চুলা জ্বলছে না। গ্যাস না পাওয়ায় অনেকেই কেরোসিন, বিদ্যুত্ ব্যবহার করে রান্নার কাজ সারছেন। আবার অনেকেই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রোগীদের খাবার রান্না করতে হচ্ছে। সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্নার চুলা জ্বলছে মিটমিট করে।
 
চট্টগ্রামে গ্যাস বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রে কনডেনসেটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় উত্পাদন কমে গেছে। গ্যাসের উপজাত হিসাবে কনডেনসেট পাওয়া যায়। এসব কনডেনসেট বিপিসি’র তেল বিপণন কোম্পানিগুলো কিনে নেয়। কিন্তু হঠাত্ কনডেনসেট কেনা বন্ধ করে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। এতে সরবরাহ লাইনে জটিলতা দেখা দেয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
 
চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এসব চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় দৈনিক ২৬০ থেকে ২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সৃষ্ট জটিলতায় গত শনিবার থেকে দৈনিক ১৫০ থেকে ১৮২ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) খন্দকার মতিউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের বিষয়টি পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছি। সরবরাহ কমে যাওয়ায় সকল প্রকার গ্রাহককে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সংকট কবে নিরসন হবে  তা-ও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
 

এদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে রেশনিং করে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। দৈনিক ৬ ঘণ্টা করে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হয়। বর্তমানে সৃষ্ট সংকটে দৈনিক ২ ঘন্টার বেশি গ্যাস পাচ্ছে না তারা। এতে করে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ জট লেগেছে।