‘তিনি বার্সেলোনার, আর্জেন্টিনার নন’, এই অপবাদ ঘুচিয়ে দিতে প্রস্তুত মেসি। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া লাতিন আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে জাতীয় দলকে শিরোপা জেতাতে বদ্ধপরিকর মেসি। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে অবিশ্বাস্য এক মৌসুম কাটানো আর্জেন্টিনা অধিনায়কের বিশ্বাস এবারই কাটছে আর্জেন্টিনার প্রায় দুই যুগের শিরোপা খরা।
বার্সেলোনার জার্সি গায়ে জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছু। গত দশ বছরে দুই ভিন্ন কোচের অধীনে চার বার জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, সাতটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট শিরোপা আর দুটি ক্লাব বিশ্বকাপ। টানা চার বার জিতেছেন ফিফা বর্ষসেরার খেতাব। ব্রাজিল বিশ্বকাপে দল রানার্স আপ হলেও পেয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। ব্যক্তিগত আর ক্লাবের ট্রফিতে যেখানে পরিপূর্ণ ঘর, সেখানে দেশের ট্রফি রাখার ঘরগুলো ফাঁকা। সেখানে পরতে পরতে কেবল ধুলোরই আস্তরণ।
সেই ১৯৯৩ সালে সর্বশেষ কোপার শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর বেশ কয়েকবার কাছাকাছি গেলেও শেষ পর্যন্ত পুড়তে হয়েছে আক্ষেপের হাহাকারে। গত বছর বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হারে আরো দীর্ঘায়িত হয়েছে অপেক্ষা। নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড পড়া মেসি কান্নায় মুখ লুকিয়েছেন সতীর্থদের বুকে। তবে আন্দিজ পর্বতমালা পাড়ি দিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে চিলিতে দলকে সমর্থন দিতে পৌঁছে যাওয়া ২০ হাজার সমর্থককে এবার আর খালি হাতে ফিরতে হবে না বলেই আশাবাদ মেসির। পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন শিরোপা ছাড়া অন্য কিছু ভাবছেই না তার দল, ‘এবার শিরোপা জেতাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’
তবে মেসির কথায় সমর্থকরা খুব বেশি আশ্বস্ত না হলেও অবাক হবার কিছু নেই। কারণ, বার্সেলোনার জার্সি গায়ে প্রতিনিয়তই ধ্রূপদী সব পারফরম্যান্সে চোখ কপালে তুলে দেয়া মেসি আর্জেন্টিনার বিখ্যাত আকাশী সাদা টি-শার্ট গায়ে দিলেই কেমন যেন ম্লান। কোথায় যেন হারিয়ে যায় সেই ডিফেন্স চেরা দৌড় আর নিখুঁত সব শট। চলতি মৌসুমেও কাতালানদের হয়ে লিগে ৩৮ ম্যাচে করেছেন ৪৩ গোল। সব মিলে লা লিগার ইতিহাস সর্বোচ্চ ২৮৬ গোলও তার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সর্বোচ্চ ৭৭ গোলও এসেছে এই খুদে জাদুকরের কাছ থেকে। অথচ আর্জেন্টিনার হয়ে ৯৭ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা মাত্র ৪৫। নিজের ছায়া থেকে এবার বেরিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর মেসি। জানালেন তেমনটাই, ‘জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার অনুভূতিই আলাদা। ঐ জামা গায়ে গলানো এবং অধিনায়কত্ব করা। কিন্তু একটি শিরোপা জেতাই আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য।’
২০০৭ সালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়া দলের সদস্য ছিলেন মেসি। নিজের প্রদেশ সান্তা ফেতে ২০১১ সালে উরুগুয়ের সাথে শেষ আটে হেরে যান টাইব্রেকারে। শুনতে হয় দর্শকদের দুয়ো ধ্বনিও।
কোচ টাটা মার্টিনোর বিশ্বাস এবার অবসান হবে সব কিছুর। কারণ, চোটজর্জর দুই মৌসুম শেষে এবার মেসি আছেন নিজের সেরা অবস্থায়। বার্সেলোনায় এক মৌসুম মেসির কোচের দায়িত্বে থাকা মার্টিনো বলেন, ‘সে এমন কিছু কাজ করছে যেগুলো আগে তাকে আমি করতে দেখিনি। আমি দেখতে পাচ্ছি সে তার সতীর্থদের সাথে সময়টা খুব উপভোগ করছে।’
মেসির পাশাপাশি কার্লোস তেভেজ, সার্জিও অ্যাগুয়েরো এবং গঞ্জালো হিগুইনের মতো বিশ্বের সেরা কিছু স্ট্রাইকারকে হাতে পাচ্ছেন মার্টিনো। সুতরাং গোল বন্যায় প্রতিপক্ষকে ভাসিয়ে দেয়ার আশা করতেই পারেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। —এএফপি
