অভিষেকের অপেক্ষায় কোহলি

আপডেট : ১০ জুন ২০১৫, ০২:৩৭

তার মাঠের বাইরের জীবন নিয়ে অনেক গুঞ্জন। তার ভাবমূর্তি নিয়ে অনেক কথা ভারতেরই সংবাদ মাধ্যমে। ফলে বিরাট কোহলিকে একটু ‘উদ্ধত’ বা ‘অশান্ত’ বলে অনুমান করা যেতে পারে। কিন্তু গতকাল নিয়মিত টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কথাবার্তায় বুঝিয়ে দিলেন—এই কোহলি আসলে অন্য কেউ।

 
বারবারই পরিমার্জিত, পরিকল্পিত কথাবার্তা বলে নিজের ভাবমূর্তিটা দাঁড় করাচ্ছিলেন নতুন করে। সঙ্গে বাংলাদেশের টেস্ট পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ এলে রীতিমতো নিজেকে কূটনৈতিক জ্ঞানের অধিকারী বলে প্রমাণ করে ছাড়লেন।
 
২০১০ সালে বীরেন্দ্র শেবাগ টেস্টে বাংলাদেশকে ‘অর্ডিনারি’ বলে সমালোচিত হয়েছিলেন। সে প্রসঙ্গ উঠতে কোহলি উল্টো বাংলাদেশকে প্রশংসায় ভাসিয়ে বললেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে তিনি নেই, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে আমি টেস্ট খেলিনি। তবে ওয়ানডে খেলেছি এবং আপনারা সবাই দেখেছেন, ওয়ানডেতে ওদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখি। পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পেলে টেস্টেও ওরা নিয়মিত ভাল খেলবে। ওরা কোন অবস্থানে আছে বা কেমন দল, সেটা বিচার করার আমি কেউ নই; অন্য কেউ করতে পারে। আমরা টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামছি, বাংলাদেশকে আমরা নিচ্ছি অন্য সব প্রতিপক্ষের মতোই।’
 
বাংলাদেশ যে বিশেষ কিছু প্রতিপক্ষ সেটা বোঝাতে নাম ধরে ধরেই কোহলি বললেন, তারা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েই নামছেন, ‘সাকিব আছে, তামিম আছে বাংলাদেশ দলে। মুমিনুল হক আছে। এক ঝাঁক পারফরমার আছে। আমাদের এদের নিয়ে আলাদা -আলাদা পরিকল্পনাও আছে।’
 
এই কোহলির কথাবার্তা শুনলে বোঝা যায়, তিনি ভারতের নেতা হতে প্রস্তুত। আর নেতা হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ভারতীয় বোর্ডের প্রতি যারপরনাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এই তরুণ অধিনায়ক, ‘আমি জীবনেই কল্পনা করিনি, ২৬ বছর বয়সে আমি ভারতকে টেস্টে নেতৃত্ব দেবো। এজন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরুর জন্য রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় আছি আমি। আশা করি, ফলটাও ইতিবাচক হবে।’
 
 টেস্টে অধিনায়কত্ব এর আগেও করেছেন কোহলি। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরেই মহেন্দ্র সিং ধোনির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব সামলেছেন। তবে নিজেই মানছেন, তার সঙ্গে এই নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামার তুলনা হয় না, ‘অধিনায়ক হিসেবে নতুন ইনিংসের শুরু এটাই। অস্ট্রেলিয়ায় আমি জানতাম, ধোনির পরিবর্তে নেতৃত্ব দিচ্ছি। আগামীকাল যখন তাই টস করতে যাব, আমার জন্য সেটি হবে স্পেশাল মুহূর্ত। হয়ত অবসরের পর এই মুহূর্তগুলোই আলাদা করে মনে রাখব।’
 
মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত
 
তারিখ              ভেন্যু            ফলাফল
 
১০ নভেম্বর, ২০০০                বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ভারত ৯ উইকেটে জয়ী
 
১০ ডিসেম্বর, ২০০৪               বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম  ভারত ইনিংস ও ১৪০ রানে জয়ী
 
১৭ ডিসেম্বর, ২০০৪               চট্টগ্রাম  ভারত ইনিংস ও ৮৩ রানে জয়ী
 
১৮ মে, ২০০৭    চট্টগ্রাম          ড্র
 
২৫ মে, ২০০৭    মিরপুর          ভারত ইনিংস ও ২৩৯ রানে জয়ী
 
১৭ জানুয়ারি, ২০১০               চট্টগ্রাম  ভারত ১১৩ রানে জয়ী
 

২৪ জানুয়ারি, ২০১০               মিরপুর  ভারত ১০ উইকেটে জয়ী