এসএসসির পরে এখন সবাই ছুটছে উচ্চ মাধ্যমিকের পথে। পড়াশোনার এ স্তরটি তোমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কেননা পরবর্তী জীবনে ক্যারিয়ারের ভিত এখানেই রচিত হয়। তাই এ সময়টায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে অনেক সতর্ক এবং সচেতনভাবে। উদ্দেশ্যহীনভাবে কাজ করলে কখনো সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব নয়।
অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে দেশের নামকরা কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু আসন সংখ্যা কম থাকায় সবার সে স্বপ্ন পূরণ হয় না। তাই বলে হতাশ হলে চলবে না। পড়াশোনা করতে হবে নিজেকেই।
কোন কলেজে ভর্তি হবে
এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ব্যাপারে সঠিক দিকনির্দেশনা দরকার। পছন্দের তালিকায় কয়েকটি কলেজ থাকলে, সেসব কলেজের ব্যাপারে খোঁজ-খবর রাখতে হবে। এসএসসির ফলাফল আর্থিক সঙ্গতি, যাতায়াত ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা করে কোন কলেজে ভর্তি হওয়া যায়, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগেই নেয়া উচিত। এ বছর বিভিন্ন কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। বর্তমানে এমন অনেক কলেজ আছে, যাদের প্রয়োজনীয় অব-কাঠামো নেই, দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নেই, ল্যাবরেটরি নেই, লাইব্রেরি নেই এগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে। কেননা কলেজ শিক্ষার্থীর জন্য এগুলো খুবই জরুরি।
বিভাগ ও বিষয় নির্বাচন
এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পাস করেছে, এখন কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হবে কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করে এখন ভর্তি হতে চাও মানবিক বিভাগে। এরকম কোনো ব্যাপার হলে খুব বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেবে। এসএসসি আর এইচএসসির সিলেবাসের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। এইচএসসিতে কোন কোন বিষয় নেবে, তা আগে থেকেই জেনে বুঝে নিতে হবে।
লক্ষ্য থাকবে অটুট
কলেজে নতুন শ্রেণিতে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে নতুন শিক্ষাঙ্গন, নতুন পরিবেশ, নতুন বই আর নতুন বন্ধু-বান্ধব তোমাকে কখনো উত্সাহিত করতে পারে আবার কখনোও দিকভ্রান্তও করতে পারে। কিন্তু আনন্দের আতিশয্যে ভুলে গেলে চলবে না যে, তোমাকে খুব শীঘ্রই নতুন করে যোগ্যতা প্রমাণের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে হবে। যে যোগ্যতা তোমাকে পৌঁছে দেবে তোমার জীবনের লক্ষ্যে। তোমার লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গে দৃঢ়তাও থাকতে হবে।
যানজটে কাছের কলেজটিই উত্তম
অনেককেই দেখা যায় তুলনামূলক কিছুটা ভাল প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট পাড়ি দিয়ে কলেজে যেতে বিলম্ব হয়ে যায়, কখনও এক-দুটি ক্লাস মিসও যায়। বিশেষ করে তড়িগড়ি করে কোন মতে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারলেও যানজটের ধকলে ঘর্মাক্ত ও রাজ্যের ক্লান্তি ভরা শরীর ও মন নিয়ে ক্লাসে মনোযোগ দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বেশির ভাগ সময়ই স্যারের ধমক খেতে হয় ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়ার দায়ে। তাই প্রতিদিন তীব্র যানজটে নাকাল হওয়ার চেয়ে বরং বাড়ীর কাছের কলেজটি কিছুটা কম বা মধ্যম মানের হলেও সুস্থ দেহমনে পূর্ণাঙ্গ মনোযোগের সাথে শান্তিতে ক্লাস করার স্বার্থে সেটাই উত্তম।
—লেখক :অধ্যক্ষ, সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ
