সুযোগ আছে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে

আপডেট : ১০ জুন ২০১৫, ০২:৪৯

উন্নত বিশ্বে কারিগরি শিক্ষা প্রাধান্য পেলেও বাংলাদেশে সেক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। দেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য রয়েছে অপার সম্ভাবনা। প্রত্যেক বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০টি সরকারি ও ৪৩৯টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ৩৫টিরও বেশি বিষয়ে প্রায় ৭২ হাজার ৯২০টি আসনে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মেয়েদের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় রয়েছে চারটি আলাদা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 
এছাড়া সারাদেশে আরো ১৩টি কৃষি ডিপ্লোমা, ৩টি টেক্সটাইল, ৩৯টি হেল্থ টেকনোলজি, ১টি গ্রাফিক্স আর্টস ও ১টি গ্লাস সিরামিকস ইনস্টিটিউট রয়েছে। এসএসসি পাস ও তার সমমানের (দাখিল ও ভোকেশনাল) শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদী এই কোর্সে ভর্তি হতে পারে। তবে বিষয় বন্টন হয় ভর্তি পরীক্ষা ও এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ থেকে মেধাক্রমে।
 
এক্ষেত্রে এসএসসি ও ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই এসএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। যে সকল শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে তাদের সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত এ ন্যূনতম জিপিএ ৩ থাকতে হবে। অন্যান্য বিভাগ থেকে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিজ্ঞান ও সাধারণ গণিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা দুই শিফটে ভর্তি হতে পারে। প্রথম বা মর্নিং শিফট ও দ্বিতীয় বা ডে শিফট।
 
যে সকল শিক্ষার্থী চলতি বছর পাস করেছে অথবা দুই বছর পূর্বে পাস করেছে তারা প্রথম শিফটে এবং যে সকল শিক্ষার্থীর দুই বছরের বেশি গ্যাপ রয়েছে তারা দ্বিতীয় শিফটে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৫০ নম্বর লিখিত ও ৫০ নম্বর এসএসসি এর রেজাল্টের উপর। লিখিত পরীক্ষা বাংলা ও ইংরেজিতে ১৫ নম্বর, ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রিতে ১৫, গণিতে ১৫, সাধারণ জ্ঞান এ ৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
 
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থীরা বেছে নিতে পারে তার স্বপ্নের ক্যারিয়ার ভর্তি হতে পারে তার পছন্দের বিষয়ে। অটোমোবাইল টেকনোলজি, আর্কিটেকচার টেকনোলজি, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল টেকনোলজি, সিভিল টেকনোলজি, সিভিল (উড) স্পেশালাইজেশন, ফুড টেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি, পাওয়ার টেকনোলজি, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনার টেকনোলজি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সার্ভেইং, গ্লাস টেকনোলজি, অফসেট প্রিন্টিং, ডাটা টেলিকমিউনিকেশন এন্ড নেটওয়ারকিং টেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি, ইনভায়রনমেন্ট টেকনোলজি, ইন্সট্রুমেনশন এন্ড প্রোসেস কন্টোল টেকনোলজি, টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি, টেক্সাটাইল টেকনোলজি, আর্কিটেকচার এন্ড ইনটেরিয়র ডিজাইন টেকনোলজি, গার্মেন্টস ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ন মেকিং টেকনোলজি, গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড অটোক্যাড টেকনোলজি, অটো ফোল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ন্যানো টেকনোলজি, সিলিকন প্লান টেকনোলজি, এলসিডি মনিটর মেকিং টেকনোলজি, লেদ মেশিন অপারেটর প্রভৃতি আরো অনেক বিষয়ের মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীরা বেছে নিতে পারে তার পছন্দের বিষয়টি।
 
বর্তমান বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং এদের রয়েছে বিশাল চাকরির বাজার। তাই অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এখন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করা ও তার ক্যারিয়ার গড়া। বিস্তারিত জানতে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন www.techedu.gov.bd। এ বছর যে সকল শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিবে তাদের প্রতি রইল শুভ কামনা।