জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবিরা বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরে আমরা কিছু পাইনি এমন বলব না। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মোদীর ১৫ মিনিটের একান্ত বৈঠক হয়েছে। এটি একটি বিরাট প্রাপ্তি। বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে তা জানি না। তবে বিশ্বাস করি খালেদা জিয়া সময় নষ্ট করেননি।
বুধবার ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত ‘ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।
বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শত নাগরিক কমিটির প্রধান প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ মো. আবু জাফর, বিএনপির সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, কৃষক দলের নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমতউল্লাহ,কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের মধ্যে দিয়ে কংগ্রেস ও আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে । ভারতের কংগ্রেস সরকারের সাথে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক রয়েছে। তেমনি আওয়ামী লীগের সাথেও তাদের নাড়ির সম্পর্ক। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে তখনকার কংগ্রেস সরকারের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এমনকি এরশাদকে হুমকি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করেন। কিন্তু মোদীর বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক আগের মতো আছে কিনা জানি না, তবে আগের মতো শক্তিশালী নেই।
তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম মোদীর এই সফরে তিস্তা চুক্তি হবে। তা হয়নি। জনগণের সমর্থন নিয়ে তিস্তা চুক্তির দাবি জোরালো করতে হবে।
জনসমর্থনহীন সরকার দিয়ে এ দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন,নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরে ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকার ২২টি চুক্তি সই করেছে। এসব চুক্তির অধিকাংশই ভারতের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ দেখা হয়নি।
বাংলাদেশের জমিনকে ভারতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজনকে সন্তুষ্ট করতে নিজের উঠান আমি খুলে দিলাম। কিন্তু খোলা উঠানে পা দেয়ার ক্ষমতা আমার আদৌ আছে কিনা তা সরকারের ভেবে দেখা উচিত।এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশ স্বাধীন করেছি। কোনো চুক্তির মাধ্যমে দেশের এক ইঞ্চি মাটিও আমরা কারো কাছে ছেড়ে দেব না। সরকার কখনোই চায়নি মোদির সঙ্গে খালেদা জিযার বৈঠক হোক। না চাওয়ার একমাত্র কারণ তাদের জনসমর্থন নেই। এমাজউদ্দীন আহমদ আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে চুক্তির বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন করবেন। সংসদ ও সংসদের বাইরে এ নিয়ে খোলামেলা কথা হওয়া উচিত। যাতে কোনো লুকোচুরি না থাকে।
মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, মোদির বাংলাদেশ সফরে আমরা কিছু পাইনি এমন বলব না। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মোদির ১৫ মিনিটের একান্ত বৈঠক হয়েছে। এটি একটি বিরাট প্রাপ্তি। বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে তা জানি না। তবে আমি বিশ্বাস করি খালেদা জিয়া সময় নষ্ট করেননি। তিনি বলেন, মোদীর সঙ্গে যাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ না হয় সেজন্য সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। মোদী-খালেদা বৈঠক কতটুকু সফল সেটা সময়ই বলবে। জনগণ তখন তা দেখবে।
