বৃষ্টি ও হতাশার প্রথম দিন

আপডেট : ১০ জুন ২০১৫, ২৩:২৮

সকাল থেকেই জ্বললো শিখর ধাওয়ানের ব্যাট। বিকেলের দিকে এসে সঙ্গী মুরালি বিজয়ের ব্যাটও জ্বললো। তবে সবার আগে জ্বলে উঠলো ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট।

 
মেঘলা আকাশ, এক সেশন জুড়ে বৃষ্টি এবং ধাওয়ান-বিজয়ের ব্যাটিং দৌরাত্ম্যেই শেষ হলো ভারত ও বাংলাদেশের চলতি সিরিজের একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটি। বৃষ্টির হাত এড়িয়ে বাংলাদেশের নির্বিষ বোলিং ও ক্যাচ ড্রপের সুযোগে ভারত প্রথম দিনশেষে বিনা উইকেটে তুলে ফেলেছে ২৩৯ রান। এর মধ্যে ধাওয়ান একাই অপরাজিত আছেন ১৫০ রান করে; বিজয়ের সংগ্রহ ৮৯ রান।
 
বাংলাদেশ এই টেস্টে মাঠে নামার আগে একাদশ ঘোষণার ভেতর দিয়েই এক কদম যেন পিছিয়ে পড়লো। বিস্ময়করভাবে আবারও টেস্ট খেলতে নামলো তারা ৮ জন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান নিয়ে। আর বোলিং আক্রমণ সাজানো হলো একজন মাত্র পেসার দিয়ে। সেই মোহাম্মদ শহীদের সঙ্গে টেস্টে বোলিং শুরু করলেন একেবারেই পার্ট টাইমার বোলার সৌম্য সরকার।
 
ফতুল্লার নিষ্প্রাণ উইকেট ও এই নির্বিষ বোলিংয়ের কল্যাণে অন্ধকার পরিবেশে ২৩ ওভারেই ১০৬ রান তুলে ফেললো ভারত। এর মধ্যে দু’একটা ‘হাফ চান্স’ মিস তো ছিলোই। তবে ২৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ধাওয়ানের সহজ ক্যাচ ফেলে দিনটাকে আরও অন্ধকার করে দিলেন শুভাগত হোম; ধাওয়ানের রান তখন ৭৩। আর এক বল পরেই মুষলধারে নামলো বৃষ্টি।
 
সেই বৃষ্টির জন্য প্রায় একটা সেশন খেলা বন্ধ হয়ে রইলো। ফের যখন খেলা শুরু হলো, আবারও সেই ধাওয়ান আর বিজয়ের গল্প। ধাওয়ান তার তাণ্ডব ধরে রাখলেন। লোকেশ রাহুল ডেঙুর জন্য বাংলাদেশ সফরে আসতে না পারায় ওপেনিংয়ে জায়গাটা টিকে গিয়েছিলো তার। প্রতিদানটা দারুণ দিলেন। ভারতের হয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্রুততম সেঞ্চুরি করে ফেললেন। এদিকে সকালের সেশনে চুপচাপ থাকা বিজয়ও ফিফটিতে পৌঁছে গেলেন।
 
দিনশেষে দু’জনে যখন উইকেট ছাড়ছেন, সংগ্রহ তাদের ২৩৯ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে একবারই কোনো দল বিনা উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই শতাধিক রান তুলতে পেরেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার নীল ম্যাকেঞ্জি ও গ্রায়েম স্মিথ ২০০৮ সালের সেই টেস্টে ৪১৫ রানের বিশ্বরেকর্ডই করে ফেলেছিলেন। এবার অন্তত মুশফিকরা নিশ্চয়ই সেই সুযোগ দেবেন না ধাওয়ানদের।