আওয়ামী লীগ বলেছে, বিএনপি এখনো ভারতবিরোধী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফিরে যাওয়ার পর তারা আবারো ভারতবিরোধিতার পুরনো রূপে ফিরে গেছে। আসলে বিএনপির রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ভারতবিরোধী, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ পোষণ। গতকাল বুধবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। মঙ্গলবার বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপনের সাংবাদিক সম্মেলনে মোদীর বাংলাদেশ সফর বিষয় নিয়ে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তার জবাব দিতেই এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি তাদের পুরনো পরিচয়কে গোপন করার চেষ্টা করেছিল। মোদী ভারতে ফিরে যাওয়ার পর পরই বিএনপির চরিত্র স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াত নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিপক্ষে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিএনপি নেতারাও তাদের পুরনো চরিত্র অনুযায়ী এই সফর সম্পর্কে অসংলগ্ন কথাবার্তা অব্যাহত রেখেছেন। লিখিত বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেন, অনেক অনুনয়-বিনয় করে খালেদা জিয়া নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেছেন, সাক্ষাতের জন্য কাওরান বাজারে অপেক্ষাও করেছেন। এতে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন হাসিনা সরকারের সঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তখনই বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এজন্য মোদীর সফল ও গুরুত্বপূর্ণ সফরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে তারা। যে চুক্তিগুলো হয়েছে তার প্রশংসা না করে, তিস্তা চুক্তিসহ নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করছে।
হাছান মাহমুদ বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্সের জন্য শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করায় বিএনপির গাত্রদাহ হয়েছে। ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদীর কথায় স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা (বিএনপি) যে পেট্রোল বোমা মেরে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি করছে এগুলোকে ভারত কখনোই সমর্থন করে না।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন
