ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি। অনেক দিন ধরেই অভিযোগ ছিল, সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগসাজশ করে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের আয়তন কম দেখিয়ে বাড়ির মালিকের কাছ থেকে উেকাচ নিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স হিসাবের চেয়ে অনেক কম নির্ধারণ করে দেন। এতে লাভবান হন বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকরা। রাজস্ব বঞ্চিত হয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু ফুলেফেঁপে ওঠে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেট। এতদিন এসব দুর্নীতি আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার তা হাতেনাতে ধরা পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি)। এরই মধ্যে এ ঘটনায় দুই কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।
জানা গেছে, হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে অভিযোগ আসছিল ডিএসসিসিতে। সম্প্রতি এরকম অভিযোগ আসে কামরাঙ্গীরচর এলাকার ৩৫/২ কালুনগর হোল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে। সঙ্গে সঙ্গেই ডিএসসিসির একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা পায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কর কর্মকর্তা আবুল খায়ের ও উপ-কর কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে তাত্ক্ষণিকভাবে ওএসডি করা হয়। গঠন করা হয় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি। আবুল খায়েরের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করেছে।
এ কমিটির প্রধান ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশিকুর রহমান বলেন, তদন্তে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণে ভয়াবহ রকমের অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। মাত্র একটি ঘটনায় ওই চক্রটি প্রায় ৯ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি হোল্ডিংকে ১ হাজার ৫০০ বর্গফুট দেখিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছে করপোরেশনের। এ ছাড়া অনেক আগেই ভবনটি নির্মিত হলেও সেটা গোপন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর বিভক্ত দুই সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চালিয়ে আসছেন। এভাবে সিটি করপোরেশন প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি না থাকায় অসাধু কর্মকর্তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের প্রধান মো. মোস্তফা কামাল ইত্তেফাককে বলেন, রাজস্ব আদায়ে কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাত্ক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি নগরবাসীকে নিয়মিত কর পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কর দিয়ে মহানগরীর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করুন।