দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১১ জুন ২০১৫, ১৮:৪৯
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের স্বার্থে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সময়মতো পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য সংগ্রহ এবং যথাযথ দায়িত্ব পালন করার কারণেই বিএনপি জামায়াতের নাশকতা থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজা কনকর্ড এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গত জানুয়ারি মাস থেকে টানা ৯২ দিন সারাদেশে তাণ্ডব হয়েছে। আমি গোয়েন্দা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই কারণ তারা সময়মতো সঠিক তথ্য সরবরাহ করেছে এবং সকল গোয়েন্দা সংস্থা সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। সেই সাথে সকলে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে বলেই আমরা এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। পুলিশ বাহিনী জনগণের আস্থা সমুন্নত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনী দিন-রাত জনগণের সেবায় নিয়োজিত। এজন্য তার সরকার এ বাহিনীর কল্যাণে যত্নশীল। শেখ হাসিনা আরো আশা প্রকাশ করেন যে, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে এই প্লাজা সহায়তা করবে। এই প্লাজাটি চমত্কার একটি স্থানে। পাশেই হাতিরঝিল। যে উদ্দেশ্য নিয়ে আপনারা এটি করেছেন সেটা আশাকরি সফল হবে। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর কল্যাণে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, তার সরকার ২০০০ সালে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে। শুরু থেকে এই প্রতিষ্ঠান পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের কল্যাণে সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। এই ট্রাস্ট পুলিশ সদস্যদের মাঝে একতা, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় করার পাশাপাশি পেশাগত উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছে।  বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। এটাই আমাদের প্রাপ্তি। আমরা মানুষের কাছে হাত পেতে নয়, কাজ করেই সেটা প্রমাণ করেছি।

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা আরো বলেন, আপনাদের জন্য যেটা করি, মনে করবেন, এই দেশের মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই করি। কাজেই আপনাদের কাছে আশা করব, সবসময় মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করবেন। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ বজায় রাখা যে পুলিশের দায়িত্ব, তা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যদি কোনোরকম কষ্ট পায়, তাদের ওপর কোনোরকম দুর্যোগ নেমে আসে, সাথে সাথে আপনাদের সেবা পাবে, এটাই মানুষ আশা করে। কাজেই মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা আপনারা পূরণ করবেন। সেটাই আমরা সবসময় চাই।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন,  জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের ‘খাটুনি’ বেশি হয় বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশের জন্য অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির চিত্রও অনুষ্ঠানে তিনি তুলে ধরেন। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনে নাশকতা দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। একাত্তরে পুলিশ সদস্যদের অবদানের কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
 
সকাল সাড়ে ১০টায় পুলিশ প্লাজা কনকর্ডের সামনে গুলশান পার্কে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও প্রবল বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ায় অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পরে পুলিশ প্লাজা কনকর্ডের প্রথম তলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ও পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।