সফলভাবে জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করায় খুব শিগগিরই আরো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান। তার বিশ্বাস দীর্ঘ দিন পর নিজ মাঠে সফলভাবে এ সিরিজ শেষ হওয়ায় অন্য দলগুলোকে উজ্জ্বীবিত করবে। শ্রীলঙ্কা পুনরায় পাকিস্তান সফরের কথা বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। খবর বাসসের।
ছয় বছর আগে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দল বহনকারী বাসে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসিত। তবে গত মাসে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় পাকিস্তানের গৃহীত ব্যবস্থা দেখানোর জন্য শ্রীলংকা ক্রিকেটের অন্তবর্তীকালীন প্রধান সিদাথ বেটিমুনিকে আমন্ত্রণ জানান খান।
অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে শুক্রবার খান বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শক এবং সার্বিক পরিবেশে তিনি (সিদাথ) খুবই খুশি।’
‘সার্বিক বিষয়ে তিনি তার বোর্ডকে জানাবেন বলে আমাকে কথা দিয়েছেন। আমরা আশাবাদি যে শ্রীলঙ্কা দল পাকিস্তান সফর করবে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।’
ভারত ও পাকিস্তান ইতিমধ্যেই ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত করেছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। তবে ভারতীয় দল পাকিস্তানের মাটিতে খেলবে অথবা পাকিস্তান তার ‘হোম’ সিরিজ ভারতে খেলবে এমন কোন কথা বলেননি খান।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা যে সমঝোতা চুক্তি করেছি তাতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, পাকিস্তান তাদের হোম সিরিজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজন করবে।’
‘আমরা তাদের মাটিতে আমাদের হোম সিরিজ আয়োজন করবো। এটা কেবলমাত্র একটা ধারণা। এমন কোন প্রস্তাব আমরা পাইনি।’
দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ভবিষ্যত এখনো অনিশ্চিত থাকলেও জিম্বাবুয়ে সফরের পর বেশ আশাবাদি খান বলেন, আবারো ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা যে পাকিস্তানের আছে আমরা সেটা প্রমাণ করেছি।
তিনি বলেন, ‘খুবই সফল একটি সিরিজ ছিল এটি। ভবিষ্যতে আরো সিরিজ আয়োজনের ভিত্তি হিসেবে এটা খুবই কাজ করবে। সব ম্যাচেই দর্শক ছিল একদম কানায় কানায় পূর্ণ। শতভাগ টিকেট বিক্রি হয়েছে এবং একই সঙ্গে আমরা ভাল রাজস্ব পেয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে খেলোয়াড়রা আমাদের বলেছে, অতীতে এমন অভ্যর্থনা কখনো কোথাও তারা পায়নি। কঠোর নিরাপত্তা ও চমৎকার পরিবেশে এ সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সিরিজ ভবিষ্যতে আমাদেরকে পাকিস্তান সুপার লীগ আয়োজনেও সাহায্য করবে।
এ সফরের জন্য জিম্বাবুয়ের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ১২ হাজার ডলার করে দেয়া হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ চুক্তি অব্যাহত থাকবে না বলে জানান খান।
তিনি বলেন, ‘এটা ছিল কেবলমাত্র এ সফরের চুক্তি। তার মানে এই নয় যে, পাকিস্তান সফরকারী প্রতিটি দলকেই আমরা দেব।’
তিনি আরো বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে সফর ছিল একটি ব্যতিক্রম। পাকিস্তান সফরের জন্য আমরা জিম্বাবুয়ের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন ফিরতি সফর হিসেবে আমাদের দল আগস্টে জিম্বাবুয়ে যাবে। দ্বিপাক্ষিক শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে।
আমাদের দেশ যারা সফর করবে ফিরতি হিসেবে আমরাও সে দেশ সফর করব। এটা খুবই সাধারণ বিষয়।’
