প্রধানমন্ত্রী লন্ডন পৌঁছেছেন

আপডেট : ১২ জুন ২০১৫, ২৩:৪৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে ছয় দিনের সফরে লন্ডন পৌঁছেছেন। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৪৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট রাঙ্গা প্রভাত লন্ডনস্থ হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. আব্দুল হান্নান। এ সময় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোটর শোভাযাত্রা সহকারে সরাসরি পার্ক লেনে অবস্থিত হিল্টন হোটেলে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, তার মেয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে নব-নির্বাচিত এমপি টিউলিপ সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এছাড়া হোটেলে অপেক্ষমাণ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান।

 
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, চিফ হুইপ এএসএম ফিরোজ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
 
মধ্য আকাশে বিমানযাত্রীদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়
 
লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পৌনে এক ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনগামী বিমানযাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি বিমানযাত্রীদের খোঁজ-খবর নেন। আকস্মিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে বিমানযাত্রীরা বিস্মিত হন, যাত্রীদের মধ্যে উল্লাস ধ্বনি ওঠে। অনেকেই মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা হাতে নেন ছবি তোলার জন্য। শেখ হাসিনা এ সময় কয়েকজন নারী যাত্রীর হাত ধরে হাসিমুখে তাদের খোঁজখবর নেন। শিশুদের কোলে তুলে আদর করেন। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বিমানের কেবিন ক্রু’দের ব্যক্তিগত খোঁজ-খবর নেন। কুশল বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী তার নিজের আসনে ফেরার পর পুরো বিমানজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। একজনকে এ সময় বলতে শোনা যায়, “জীবনে প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনাকে এতো কাছ থেকে দেখলাম। কতো সহজে মানুষের সঙ্গে মিশে গেলেন। তাকে দেখে আমার মায়ের কথা মনে হলো।”
 

প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন অফিয়া বেগম (৮০)। বিজনেস ক্লাসের এই যাত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার জন্য প্রায় চার দফা চেষ্টা করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে বাধা দিয়ে বলেন, পরে প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সাথে কুশল বিনিময় করবেন। নিরাপত্তা রক্ষীদের এ কথা তখনই তার বিশ্বাস হয়, যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানযাত্রীদের সামনে এসে দাঁড়ান। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আফিয়া বেগম ইত্তেফাককে বলেন, জীবনেও ভাবিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবো। এজন্য তিনি গর্ববোধ করছেন।