প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীলতা অর্জনই বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১২ জুন ২০১৫, ২৩:৫৭

গত কয়েক বছর ধরে সার্কভুক্ত দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক তদারকি সংস্থাগুলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে এই অঞ্চলে বিশ্বমন্দা পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির দ্বিগুণ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এখন প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীলতা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ।

 
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত (সার্ক) দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানদের অংশগ্রহণে রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল শুক্রবার সার্ক ফিন্যান্স গভর্নরস সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
সিম্পোজিয়ামের মূল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভুটানের রাজকীয় মুদ্রা তদারক সংস্থার গভর্নর দাশু দাউ তেনজিন। ওই সেশনের প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, উন্নয়নের সবচেয়ে ভালো উপায়গুলোর একটি হলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। ফলে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকার মতো দাতা সংস্থাগুলো এই ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতার হাত আরো প্রসারিত করেছে।
 
ভুটানের দাশু দাউ বলেন, ভৌগোলিক এবং অবস্থানগত কারণে আমাদের নানা সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। তাছাড়া দারিদ্র্য এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যাগুলোর একটি। এই সমস্যা মোকাবেলায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
 
সিম্পোজিয়ামের দুটি সেশনের প্রথমটিতে সভাপতিত্ব করেন রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর ড. রঘুরাম জি রাজন। এ সময় তিনি এ অঞ্চলের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তুলে ধরেন। যথাযথ আর্থিক জ্ঞানের অভাব ও সুদের বিষয়ে ধর্মীয় বিধিনিষেধ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মত দেন তিনি। সরকারি ভর্তুকিতে দুর্নীতির বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
 
এ সময় বক্তারা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ জ্ঞান, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেন।
 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক লক্ষ্মণ সাবিত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী প্রমুখ। এসময় সার্কভুক্ত দেশসমূহের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।