ম্যাসাচুসেটস হাসপাতাল ক্যান্সার চিকিত্সায় সহায়তা করবে

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৫, ০০:৪৫

ক্যান্সার রোগের চিকিত্সায় বাংলাদেশকে কারিগরি ও জ্ঞানভিত্তিক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে সফররত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে বোস্টনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এ আশ্বাস প্রদান করেন। এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন ইউনিট’ স্থাপনে কারিগরি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওই হাসপাতাল। তারা বর্তমানেও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। টেলিফোনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল ইত্তেফাককে এসব তথ্য জানান।

 
মতবিনিময় সভায় ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন।  আপনাদের  কারিগরি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রথম ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট’ বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ জন্য আর আমাদের দেশের বাইরে ছুটতে হয় না।
 
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এ রোগের চিকিত্সা খুবই ব্যয়বহুল। আক্রান্তদের অধিকাংশই চিকিত্সা খরচ মেটাতে না পেরে মারা যায়। তাছাড়া বাংলাদেশে যত ধরনের ক্যান্সার রয়েছে তার শতকরা ১১ দশমিক চার ভাগ ব্লাড ক্যান্সার। বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন এ রোগের নিরাময়যোগ্য চিকিত্সা। আর এ চিকিত্সা কর্মসূচির শুরু থেকেই আমাদের সাথী হয়েছেন ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক, প্রকৌশলী, স্থপতি, নার্স ও টেকনোলজিস্টদের একটি দল। গত এক বছরে তাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ১৪ জন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের ৫০ জন নার্সকে তারা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
 
মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে আরো বেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নার্স তৈরিতে সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানান। এক্ষেত্রেও সহযোগিতা দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
 

সভায় অন্যান্যের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের (এমজিএইচ) ক্যান্সার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ডাইরেক্টর ডা. ডেভিড রাইয়ান, নির্বাহী পরিচালক মারা ব্রুম, গ্লোবাল ক্যান্সার প্রোগ্রামের কো-চেয়ারম্যান ডা. থমাস রেনডল, গাইনোলজি ও অনকোলজি বিভাগের পরিচালক ডা. একে গুডম্যান, হাসপাতালের চিকিত্সক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. বিমলাংশু দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।