রাজস্ব স্বচ্ছতায় ‘ব্যর্থ’ বাংলাদেশ

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৫, ১৯:০৮
 
বাংলাদেশ ২০১৫ অর্থবছরে সরকারি রাজস্ব-সংক্রান্ত স্বচ্ছতার ন্যূনতম শর্ত পূরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
 
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০১৫ সালের রাজস্ব স্বচ্ছতা বিষয়ক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ২০১৫ অর্থবছরে সরকারি রাজস্ব-সংক্রান্ত স্বচ্ছতার ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা স্বাচ্ছতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাহী কার্যালয়গুলো পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে বাংলাদেশের বাজেটে তার কোন উল্লেখ নেই। ফলে, স্পষ্ট নয় যে, এটা কোনো উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ব্যয়কে নির্দেশ করছে কিনা। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ অডিট প্রতিষ্ঠান সরকারের বার্ষিক অর্থ-বিবরণী (আয়-ব্যয়ের হিসাব) তৈরি ও যাচাইয়ের নথি জনসমক্ষে যথাযথ সময়ের মধ্যে প্রকাশ করেনি।
 
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৪০টি দেশের রাজস্ব স্বচ্ছতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ রাজস্ব স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবে ৯টি দেশের সরকার ন্যূনতম স্বচ্ছতা অর্জনের পথে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ সাধনে সক্ষম হয়েছে।
 
বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের স্বচ্ছতা অর্জনের লক্ষ্যে বাজেটে আরো বিস্তারিতভাবে যুক্তিযুক্ত সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠাসমূহের পেছনে কি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ও সেখান থেকে কি পরিমাণ অর্থ আয় হচ্ছে, নির্বাহী কার্যালয়গুলোর পেছনে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, এ তথ্যগুলো সংযোজন করতে হবে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ অডিট প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ সময়ের মধ্যে সরকারের অর্থ-বিবরণীর শুদ্ধীকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্ব স্বচ্ছতা মূল্যায়নে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি, বাজেটের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের জন্য সরকারের বিভিন্ন চুক্তি ও লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রভৃতি বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।