বৃষ্টি যে নামবে, সেটা সকাল থেকেই বোঝা যাচ্ছিলো। খেলোয়াড়রাও মনে হয় বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি নামার আগেই আম্পায়াররা সবাইকে নিয়ে মাঠ ছাড়লেন। কারণ, দিনদুপুরে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে রাতের অন্ধকার নেমে এলো।
শেষ পর্যন্ত সেই বৃষ্টি এসে প্রবল রূপ ধারণ করে গতকালকের খেলাও ভাসিয়ে নিলো। মাঝে একটা দিন পুরো ভেসে গেছে বৃষ্টিতে, তৃতীয় দিনও খুব একটা খেলা হয়নি। এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গতকাল চতুর্থ দিনেরও অধিকাংশ সময় ভেসে গেলো বৃষ্টিতে। ভারতের ৬ উইকেটে ৪৬৮ রানে ঘোষণা করা প্রথম ইনিংসের জবাবে গতকাল বৃষ্টির আগ পর্যন্ত ৩ উইকেটে মাত্র ১১১ রান তুলতে পারলো বাংলাদেশ। ফলে এই টেস্টের ড্র ভাগ্য এখন লিখেই দেয়া যায়। নিতান্ত নিষ্ফলা এই টেস্টে একমাত্র প্রাপ্তি তামিম ইকবালের আরো একটা মাইলফলক পার হওয়া।
টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশের প্রায় সব ধরনের শ্রেষ্ঠত্বসূলভ রেকর্ডের মালিক এই বাহাতি ওপেনার। তিন ফরম্যাটেই দেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক আছেন আগে থেকেই। আগে থেকেই ছিলেন ওয়ানডেতে দেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক। আর গতকাল সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকে পিছনে ফেলে টেস্ট ক্রিকেটেও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন তামিম ইকবাল। ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে টেস্টের চতুর্থ দিন ১৯ রানের ছোট ইনিংস খেলার পথে বাংলাদেশের পক্ষে বড় ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে যান তামিম।
দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ডের মালিক হয়ে থাকা হাবিবুল বাশার রেকর্ড হারিয়ে আফসোস তো করছেনই না। বরং যোগ্য উত্তরসূরীর হাতে রেকর্ডটা দেখে আশা প্রকাশ করছেন যে, একদিন তামিম এই মাইলফলকটাকে দশ হাজারে পৌঁছে দেবেন।
ফতুল্লা টেস্টের আগে বড় ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন বাশার। তার ক্যারিয়ারে রান সংখ্যা ৩০২৬। তাকে পিছনে ফেলতে তামিমের প্রয়োজন ছিলো ৭ রান। ফতুল্লা টেস্টের আগে তামিমের টেস্ট ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান ছিলো ৩৯ ম্যাচে ৭৬ ইনিংসে ৩০২০ রান।
চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ২ রান নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের সিংহাসনে বসে যান তামিম। ফলে দ্বিতীয়স্থানে নেমে পড়েন বাশার। এই তালিকায় তৃতীয়স্থানে রয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তার রান সংখ্যা ২৭৩৭।
তামিমের এই রেকর্ড করার দিনে আফসোসে পুড়েছেন মুমিনুল হক। তার সামনে আরো অনেক বড় একটা রেকর্ডের হাতছানি ছিলো।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ১১ টেস্টে ফিফটি করে শচীন টেন্ডুলকারদের ছাড়িয়ে মুমিনুল উঠে গিয়েছিলেন ভিভ রিচার্ডসদের কাতারে; সামনে ছিলেন তার শুধুই এবি ডি ভিলিয়ার্স। গতকাল তর তর করে ৩০ রানে পৌঁছে যাওয়ায় দারুণ সুযোগ ছিলো এই বিশ্বরেকর্ডটিতে ভাগ বসানোর।
এখনও কাগজে কলমে সে সম্ভাবনা আছে। কারণ, বাংলাদেশের আরো একটা ইনিংস এই টেস্টে বাকি। কিন্তু সেই ইনিংসে মুমিনুলের মাঠে নেমে ফিফটি করাটা সুদূরতম এক কল্পনা।
মুমিনুল টানা এগারো টেস্টে কোনো না কোনো পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলে বিশ্বেরই দৃষ্টি কেড়েছিলেন। এই বিষয়ক রেকর্ডটা নিজের হাতে রেখেছেন এখনও টানা ১২ টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলা এবি ডি ভিলিয়ার্স।
