রাজধানীতে মাইক্রোবাসে গণধর্ষণের পরে এবার স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ওই বাসার মালামালও লুট হয়েছে। গত শুক্রবার পশ্চিম রামপুরার ১৯২ নম্বর পলাশবাগ ইমান আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তোভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে ডোবায় ফেলে রেখে যায়। শনিবার সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূকে ঢাকা মেডিক্যালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে খালার বাসায় স্বামীসহ বেড়াতে আসেন গৃহবধূ। ওই বাড়িতে গৃহবধূর খালা হালিমা বেগম ভাড়া থাকেন। ঢাকা মেডিক্যালে সাংবাদিকদের কাছে হালিমা জানান, সকালে ওদের স্বামী-স্ত্রীকে রেখে তিনি কাজে যান। এ সময় স্থানীয় বখাটে সুজন ও তার সহযোগী মঈন, আহাদ ও ফরহাদসহ ৫/৬ জন যুবক তার বাসায় ঢুকে পড়ে। বখাটেরা তারা সত্যিকারে স্বামী-স্ত্রী কিনা তা জানতে চেয়ে মারধর করে। দম্পতির একটি সোনার হার, একটি মোবাইল ফোন সেট ও ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বখাটেরা। পরে সুজন, মঈন, আহাদ ও ফরহাদ তার ভাগ্নির স্বামীকে বেঁধে ভাগ্নিকে অন্য রুমে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাদের চিত্কারে লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেয়। এরমধ্যে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। তিনি বলেন, খবর পেয়ে রামপুরা থানার এসআই মাহমুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে থানায় ফেরার পথে ডোবায় ফেলে যায় এবং মেয়েটিকে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় থানায় বসিয়ে রেখে মামলা না নিয়ে তালবাহানা করতে থাকে পুলিশ। পরে গৃহবধূকে ঢাকা মেডিক্যালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ধর্ষণের কিছু আলামত নষ্ট করেছে এমন অভিযোগও করেছেন গৃহবধূর স্বামী নিজেও। পরে শনিবার বিকালে মামলা নিয়েছে পুলিশ। ওই মামলায় চার বখাটেকে আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে রামপুরা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান তরফদার বলেন, মামলা না নেয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
