টেস্টেরও শীর্ষে তামিম

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৫, ০৩:৩৫

শচীন টেন্ডুলকার সম্পর্কে বলা হয়, তার হাতে নেই এমন কোনো ব্যাটিং রেকর্ডই নাকি দুনিয়ায় নেই!

 
কার্যত স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের অতিমানবীয় গড় এবং ব্রায়ান চার্লস লারার চার’শ রানের ইনিংস বাদ দিলে টেস্ট ও ওয়ানডের তাবত্ রেকর্ডের মালিক টেন্ডুলকার। বাংলাদেশে এই ভূমিকাটা পালন করছেন এখন তামিম ইকবাল!
 
টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির প্রায় সব ধরনের শ্রেষ্ঠত্বসুলভ রেকর্ডের মালিক বাংলাদেশে এই বাঁহাতি ওপেনার। তিন ফরম্যাটেই দেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক আছেন আগে থেকেই। আগে থেকেই ছিলেন ওয়ানডেতে দেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক। আর গতকাল সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকে পিছনে ফেলে টেস্ট ক্রিকেটেও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন তামিম ইকবাল। ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে টেস্টের চতুর্থ দিন ১৯ রানের ছোট ইনিংস খেলার পথে বাংলাদেশের পক্ষে বড় ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে যান তামিম।
 
দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ডের মালিক হয়ে থাকা হাবিবুল বাশার রেকর্ড হারিয়ে আফসোস তো করছেনই না। বরং যোগ্য উত্তরসূরীর হাতে রেকর্ডটা দেখে আশা প্রকাশ করছেন যে, একদিন তামিম এই মাইলফলকটাকে দশ হাজারে পৌঁছে দেবেন।
 
ফতুল্লা টেস্টের আগে বড় ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন বাশার। তার ক্যারিয়ার রান সংখ্যা ৩০২৬। তাকে পিছনে ফেলতে তামিমের প্রয়োজন ছিলো ৭ রান। ফতুল্লা টেস্টের আগে তামিমের টেস্ট ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান ছিলো ৩৯ ম্যাচে ৭৬ ইনিংসে ৩০২০ রান।
 
চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ২ রান নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের সিংহাসনে বসে যান তামিম। ফলে দ্বিতীয়স্থানে নেমে পড়েন বাশার। এই তালিকায় তৃতীয়স্থানে রয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তার রান সংখ্যা ২৭৩৭।
 
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসে বড় স্কোর গড়তে পারেননি তামিম। ৩টি চারের সহায়তায় ২১ বলে ১৯ রানে আউট হয়ে যান তিনি। ফলে টেস্টে এখন তার রান গিয়ে দাঁড়ালো ৩০৩৯ রান।
 
রেকর্ড হারানোর পর উল্টো উচ্ছ্বসিত হাবিবুল বলছিলেন, ‘রেকর্ড তো একদিন না একদিন হাতছাড়া হতোই। আমার ভালো লাগছে যে তামিমের মত একজন আমার রেকর্ড ভেঙেছে। যোগ্য হাতেই উঠেছে রেকর্ড। তবে একটি বড় ইনিংস খেলে ওকে রেকর্ড উদযাপন করতে দেখলে আরও ভালো লাগত।’
 
এই ইনিংসে বড় রান না পেলেও তামিমের ব্যাট থেকে নিয়মিত বড় ইনিংস দেখতে চান হাবিবুল, ‘আমি চাই না রেকর্ড গড়েই তামিম তৃপ্ত হোক। ওর সামর্থ্য আছে আরও অনেক অনেক দূর যাওয়ার। রেকর্ডটাকে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যেতে পারে। ১০ হাজার রান অন্তত করতেই পারে তামিম। সেটা না পারলে আমি হতাশ হব। শুধু তামিম নয়, এই দলের আরও কয়েকজনের সামর্থ্য আছে ১০ হাজার রান করার।’
 
হাবিবুলের রেকর্ডটির বয়স ছিল প্রায় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের বয়সের সমান। সেই ২০০১ সাল থেকেই দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রান হাবিবুলের। কদিন আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তামিম ইকবাল বলেছিলেন, ‘সুমন ভাই (হাবিবুল বাশার) যদি এত ঘন ঘন ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতেন, উনার রান অবশ্যই ৬-৭ হাজার হতো।’
 
তামিমের ওই কথা শুনে হাসলেন হাবিবুল। বেরিয়ে এল পুরোনো একটা আক্ষেপও, ‘ওই সময় আমরা এত টেস্ট খেলার সুযোগ পেতাম না। আর তখনও টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের কেবল পথচলা শুরু, অনেক প্রতিকূলতা-সীমাবদ্ধতা ছিল। নিজেরও দায় ছিল। আমার ২৪টি ফিফটির অনেকগুলোই সেঞ্চুরি হতে পারত। রানও তখন অনেক বেশি থাকত। যাই হোক, তামিমরা যখন ক্যারিয়ার শেষ করবে, আশা করব আমাদের দেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড অন্য দেশগুলোর মত সমৃদ্ধ হবে।’ —সূত্র: বাংলা নিউজ
 
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান
 
খেলোয়াড়              ম্যাচ   ইনিংস    রান       গড়           সর্বোচ্চ
তামিম ইকবাল         ৪০    ৭৭        ৩০৩৯   ৩৯.৪৬      ২০৬
হাবিবুল বাশার         ৫০    ৯৯       ৩০২৬   ৩০.৮৭      ১১৩
মোহাম্মদ আশরাফুল   ৬১    ১১৯      ২৭৩৭    ২৪.০০      ১৯০
সাকিব আল হাসান    ৪০    ৭৫        ২৭৩২    ৪০.১৭       ১৪৪      
 

মুশফিকুর রহিম        ৪৬    ৮৫       ২৫৫৫    ৩২.৩৪      ২০০