চলে গেলেন প্রগতিশীল সাংবাদিকতার অনন্য ব্যক্তিত্ব হাবিবুর রহমান মিলন। রবিবার রাত তিনটায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন যাবত কিডনি ও ফুসফুসে জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
রবিবার দুপুর একটার দিকে হাবিবুর রহমান মিলনের লাশ জাতীয় প্রেস ক্লাবে নেয়া হলে সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একই অবস্থার সৃষ্টি হয় দৈনিক ইত্তেফাকে তার মরদেহ পৌঁছালে। তার বন্ধু, শুভার্থী ও সহকর্মীরা শোকে আকুল হয়ে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রবাদতুল্য এই সাংবাদিককে।
হাবিবুর রহমান মিলনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর চেয়ারম্যান, দৈনিক ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলনের অস্তিত্বে মিশে ছিল সাংবাদিকতা। তিনি ছিলেন ন্যায়, নীতি ও আদর্শের এক প্রতিষ্ঠানতুল্য ব্যক্তিত্ব। জাতীয় প্রেসক্লাব ছিল তার সেকেন্ড হোম। সবসময় প্রেসক্লাবে ছুটে আসতেন। মানুষ হিসাবে ছিলেন অজাতশত্রু। মানুষের সঙ্গে মিশবার জন্য ছোট বড় ভেদাভেদ করতেন না।
হাবিবুর রহমান মিলন অসুস্থতার কারণে গত ২ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি হূদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর পর মরদেহ হাসপাতাল থেকে তার ইস্কাটনের বাসায় আনা হয়। সহকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রবিবার দুপুরে তার কফিন জাতীয় প্রেসসক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে লাশ নেওয়া হয় পিআইবিতে।
এরপর লাশ নেয়া হয় তার বর্তমান কর্মস্থল দৈনিক ইত্তেফাক কার্যালয়ে। পরে মরহুমের লাশ বারডেম হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হাবিবুর রহমান মিলনের এক ছেলে পাঁচ মেয়ের মধ্যে এক মেয়ে থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। তিনি দেশে পৌঁছালে সোমবার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে এই সাংবাদিককে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
