ঈদের আগে সক্রিয় জালনোট তৈরির চক্র, গ্রেপ্তার আরও ৬

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৫, ১৯:৫৩
 
ঈদের আগেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালনোট তৈরি চক্র। এ কারণ শুরু হয়েছে পুলিশের অভিযানও। শনিবার রাতে ঢাকায় আরও ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। শেরে বাংলা নগর এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে, এরা ঈদের আগে কোটি টাকার জালনোট ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল।
 
গত সপ্তাহেও মিরপুর এলাকা থেকে জালনোট চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা ৫০ লাখ টাকার জালনোট বাজারে ছাড়ার চক্রান্ত করছিল।
 
রোজা ও ঈদের আগের সময়টাতে ব্যাপক কেনাবেচা হয় বাংলাদেশে। সেই সুযোগে এই চক্রগুলো জালনোট বাজারে ছাড়ে বলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান।
 
শনিবার রাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- হাওলাদার সোহেল, মাজহারুল ইসলাম, আল আমিন, আরিফ রহমান ওরফে নিপু, শফিকুল ইসলাম ও সোহেল মিয়া।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তারা পশ্চিম কাফরুল তালতলার মিয়াধর সড়কের কবরস্থান গলির একটি বাড়ির ছাদে টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে জালনোট তৈরির কারখানা বসিয়েছিল। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪০ লাখ জাল বাংলাদেশি টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। এই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, ঈদে এই চক্র এক কোটি টাকার জাল নোট ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল। তাদের ১২ সদস্যের একটি সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে যাদের মধ্যে ছয়জনকে আটক করতে পেরেছে পুলিশ।
 
মনিরুল ইসলাম বলেন, পালিয়ে থাকা ছয়জনের কাছে ৬০ লাখ টাকার মতো জালনোট রয়েছে বলে গ্রেপ্তার ছয়জন পুলিশকে জানিয়েছে। ওই টাকা ইতোমধ্যে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে আটকরা জানিয়েছে। ঈদের সময়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সন্দেহ হলে মার্কেটে বসানো জালনোট শনাক্তকরণ যন্ত্রে পরীক্ষা করতে হবে।
 
ছয়জনকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহমুদ নাসের জনি বলেন, ‘এরা জালনোট চক্রের সক্রিয় সদস্য। ৬/৭ বছর ধরে তারা জাল টাকা তৈরি করে আসছে।’ বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি তারা জাল ভারতীয় রুপি, ইউএস ডলার ও ইউরোও তৈরি করত বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।