ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) রক্ষা এবং সম্পদ আহরণে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর এবার একই ধরনের এমওইউ স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবসহ ঢাকাকে সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়াও পাঠিয়েছে বেইজিং।
গত ১০ জুন ওই খসড়া বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের চল্লিশ বছরপূর্তি উপলক্ষে চলতি বছরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের কথা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে দুই দিনের সফরে ঢাকা আসার কথা রয়েছে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের।
সফরে বেশ কিছু চুক্তি, সমঝোতা এবং সম্মতিপত্র সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই পক্ষ। সেই সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্র সম্পদ আহরণে সহযোগিতা বিষয়ক প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটিও সই করতে চায় বেইজিং।
সমুদ্র সম্পদ আহরণে চীনের এমন সহযোগিতা আরো আগেই চেয়েছিল বাংলাদেশ। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ আইনী প্রক্রিয়ায় সফল নিষ্পত্তির পর সমুদ্র সম্পদ আহরণে বাংলাদেশের তত্পরতা আরো জোরদার হয়। সাগরে থাকা সম্পদের ওপর যৌথ গবেষণা ও জরিপ, দেশীয় জনবলের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহযোগিতা প্রদানসহ বেইজিংয়ের সার্বিক সহযোগিতা পেতে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাব করে ঢাকা। কিন্তু সে সময়ে চীনের পক্ষ থেকে কোন সাড়া আসেনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রথম দিনে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট ২২টি বিষয়ে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেখানে সমুদ্র সম্পদ বিষয়ক দুটি সমঝোতা স্মারক হয়েছে। প্রথমটি ‘ব্লু ইকোনমি অ্যান্ড মেরিটাইম কো-অপারেশন ইন দ্য বে অব বেঙ্গল অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান ওশান।’ সেখানে সমুদ্র সম্পদ রক্ষা এবং আহরণে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণে ঐকমত্য হয়েছে ঢাকা ও দিল্লি। সমঝোতা মতে, দুই দেশের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কি গ্রুপ গঠন করা হবে।
অপর সমঝোতা স্মরকটি হয়েছে, ভারতের সেন্টার অফ সাইন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাসট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। সেখানে সমুদ্র বিষয়ক যৌথ গবেষণায় সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ভারতের সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি হয়েছে, তেমনই একটি চুক্তি হতে পারে চীনের সঙ্গেও। এতে করে সমুদ্র সম্পদ আহরণ সহজ হবে।
