খুলনা-যশোরে পাটকল শ্রমিকদের ৪ ঘণ্টা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৫, ০১:৩৬

পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের প্রায় অর্ধলাখ শ্রমিক রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চারঘন্টা নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়, আটরা-গিলাতলা শিল্প এলাকার ফুটবাড়ী গেট এবং যশোরের নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার জেজেআই জুট মিল গেটের সামনে শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন  করে। রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের ডাকা ১৮দিনের কর্মসূচির অংশ হিসাবে গতকাল এই কর্মসূচি পালিত হয়। রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পাটকলগুলোতে উত্পাদন বন্ধ ছিল। তবে খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকরা এই কর্মসূচির সাথে একাত্মতা  পোষণ করলেও আন্দোলন কর্মসূচিতে তারা অংশ নেয়নি।

 
পাটশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে অবিলম্বে মিলগুলোকে পূর্ণাঙ্গ উত্পাদনমুখী করার জন্য পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, পাটপণ্যের দেশীয় বাজার সুরক্ষা ও সমপ্রসারণ করার জন্য প্রণীত আইন ২০০২ ও ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট ২০১০ বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন, ২০১৩ সালের ১ জুলাই ঘোষিত ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত খালিশপুর, দৌলতপুরসহ এবং কর্ণফুলী জুট মিলের শ্রমিকদের স্থায়ীকরণের দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ নেতৃবৃন্দ গত ৬ মে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে মিছিল-সমাবেশ, ধর্মঘট ও রাজপথ-রেলপথ অবরোধসহ ১৮ দিনের  কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
 
উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসাবে গতকাল রবিবার শেষ দিন খুলনা-যশোর অঞ্চলের ক্রিসেন্ট জুটমিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলীম জুট মিল, ইস্টার্ন জুট মিল এবং যশোরের নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা মিলের উত্পাদন বন্ধ করে সকাল সাড়ে ৯টায় স্ব স্ব মিল গেটে সমবেত হয়। সেখানে পৃথক পৃথকভাবে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশগুলোতে শ্রমিক নেতারা বলেন, পাট মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও অর্থ বরাদ্দের অভাবে পাট ক্রয় না করায় মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এতে মিলের শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পাটকলগুলোর  শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের জন্য ঘোষিত মহার্ঘ্য ভাতা বাস্তবায়ন এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পিএফ গ্র্যাচুইটির অর্থ প্রদানের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তৃতা করেন মো. দ্বীন ইসলাম, মো. সোহরাব হোসেন, বেল্লাল মল্লিক, আব্দুল মান্নান, বেলায়েত হোসেন, আবু হানিফ প্রমুখ।
 

এদিকে শ্রমিকদের রাজপথ-রেলপথ অবরোধ চলাকালে খুলনা-যশোর মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় নগরীর নতুন রাস্তা থেকে শুরু করে ফুলতলা পর্যন্ত খুলনা-যশোর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূর-দূরান্তের যাত্রীরা তীব্র ভোগান্তির শিকার হয়। অপরদিকে রেলপথ অবরোধ করার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এ পথের যাত্রীরাও পড়েন চরম সংকটে।