দুর্নীতি মামলাঃ বাদীর সাক্ষ্য বাতিল করতে খালেদার আবেদন

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৫, ১২:২৪
 
জিয়া দাতব্য ও এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বাদীর সাক্ষ্য বাতিল করে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আবেদন করেছেন ।
 
সেইসঙ্গে আদালতের কাছে রুল চেয়ে তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করেছেন তিনি। 
 
আবেদনটি শুনানির জন্য সোমবার বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি  জে বি এম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চের কার্য তালিকায় রাখা হয়েছে।
 
ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে খালেদার বিরুদ্ধে সোয়া পাঁচ কোটি টাকা দুর্নীতির এ দুই মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে একটি মামলায় বাদী দুদক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের সাক্ষ্যগ্রহণও শেষ হয়েছে।
 
বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও জামিনে থাকা খালেদা নির্ধারিত দিনে আদালতে না আসায় পাঁচ দিন আসামির অনুপস্থিতিতেই বাদীর সাক্ষ্য শোনে আদালত। এ বিষয়টি উল্লেখ করে গত ২৫ মে জজ আদালতে হারুনুর রশিদের সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন জানান খালেদার আইনজীবীরা।
 
ওইদিন শুনানি শেষে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে দুই মামলায় বাদীর জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৮ জুন দিন ঠিক করে দেন।
 
জজ আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধেই এবার হাই কোর্টে আবেদন নিয়ে এসেছেন খালেদার আইনজীবীরা। 
 
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ ২০১১ সালের ৮ অগাস্ট জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন। পরের বছর ১৬ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। 
 
তেজগাঁও থানার এ মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
 
আর জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অন্য মামলাটি দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়।
 
২০১০ সালের ৫ অগাস্ট খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন হারুনুর রশিদ।
 
পরে গতবছর ১৯ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপস্থিতিতে দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের পর তার বৈধতা ও অভিযোগ গঠনকারী বিচারকের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেও উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ওই সময় তার আবেদনগুলো আপিলেও খারিজ হয়ে গিয়েছিল।