প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় লন্ডনের পার্ক লেন হোটেলে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এই কথা বলেন। খবর: বাসসের।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ও যোগাযোগ জোরদারের মাধ্যমে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভৌগলিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে জনগণের জীবনমান উন্নত করে দেশের উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, যোগাযোগ বাড়িয়ে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মায়ানমার ইতোমধ্যে ‘বিসিআইএম ইকোনমিক করিডর (বিসিআইএম-ইসি)’ নামক যৌথ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান উন্নয়নের স্বার্থে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
দারিদ্র্যকে এই অঞ্চলের অভিন্ন শত্রু হিসাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর বিরুদ্ধে সকলকে একযোগে লড়াই চালাতে হবে। তিনি বলেন, কেবল নিজেদের নিয়ে ভাবনাটা সঠিক হবে না। আমাদেরকে প্রতিবেশীদের নিয়েও ভাবতে হবে।
ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নকে সরকারের বড় ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাফল্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখন থেকে ক্ষমতায় এসেছে, তখন থেকে একের পর এক সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার মায়ানমার-ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেও আন্তর্জাতিক সালিশী আদালতে মামলা রজুর মাধ্যমে সমুদ্রসীমা বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছি এবং এ আওয়ামী লীগই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বাঙালি জাতির জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারে।
ভারতের সাথে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এই সংবর্ধনা সভা আয়োজন করে।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
বিখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে প্রবাসী বাংলাদেশী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দেয়া মানপত্র পড়ে শোনান। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
