সফটওয়্যার ক্রয় সংক্রান্ত দুটি নথি চেয়ে বারবার তাগাদা দিয়েও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনো সাড়া না পাওয়ায় হুঁশিয়ারি চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিটি ইসি সচিবকে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের জন্য অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন সিস্টেম ও ভোটার রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম সফটওয়্যার কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সফটওয়্যার দু’টো টাইগার (বিডি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় করেছে ইসি। ওই অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য ক্রয় সংক্রান্ত নথি পাঠাতে নির্বাচন কমিশনকে ২০১৪ সালে ১ জানুয়ারি অধিযাচন পত্র দেয় দুদক।
ইসি কোনো রেকর্ডপত্র সরবরাহ না করায় গত বছর ১৭ জুন আবারও তাগিদ পত্র পাঠায় প্রতিষ্ঠানটি। এরপরও নির্বাচন কমিশন কোনো রেকর্ডপত্র পাঠায়নি। এ অবস্থায় আগামী ১৮ জুনের মধ্যে টাইগার (বিডি) এর সঙ্গে ২০১০ সালের ১৫ জুন সম্পাদিত ইসির চুক্তির প্যাকেজ নম্বর ৫(২)এর আওতায়, অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট মেচিং সিস্টেম এর ডাটাবেজ ও সফটওয়্যার সাপ্লাই, ইন্সটলেশন ও কমিশনিং সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নথি এবং ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর সম্পাদিত চুক্তির প্যাকেজ নম্বর জি ৫(৩) লট এর আওতায়, ভোটার রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম এর ডাটাবেজ ও সফটওয়্যার সাপ্লাই, ইন্সটলেশন ও কমিশনিং সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নথির সত্যায়িত ছায়ালিপি পাঠাতে বলেছে দুদক।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিযাচিত কাগজপত্র সরবরাহ করা না হলে ২০০৪ সালের দুদক আইনের ৯(৩) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনে বলা আছে, দুদকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ক্ষমতা প্রযোগে বাধা প্রদান করলে বা উক্ত ধারার অধীনে কোনো নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তি অমান্য করলে তা দন্ডনীয় অপরাধ হবে। এই অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
