পাতে কাঁচা মরিচ ছাড়া অনেক বাঙালির ভোজই হয় না। এছাড়া কাঁঁচা মরিচের ব্যবহার কি কেবল রান্নায় ঝাল আর সুগন্ধ বাড়ানোর জন্য? তা নয়। এই কাঁঁচা মরিচ ভিটামিনের এক চমত্কার উত্স। রয়েছে নানা গুণাগুণও। এই কাঁঁচা মরিচেই কিনা মিলেছে ক্ষতিকারক কীটনাশক!
কাঁঁচা মরিচ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত্ গবেষণা করছেন গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ নুরুল আলম। তার গবেষণায় যা উঠে এসেছে সেটা রীতিমত ভয়াবহ। গবেষণায় দেখা যায়, ‘কাঠই’ নামের একটি সাধারণ পোকা কাঁঁচা মরিচ নষ্ট করে। কৃষকরা এই পোকা দমনে ব্যবহার করে মাত্রাতিরিক্ত অগ্রানো ফসফরাস গ্রুপের কীটনাশক। মরিচের ক্ষেতে ছিটানো হয় ক্লোরোফাইরিফস এবং কুইনালফস নামের দুই ধরনের কীটনাশক। এসব কীটনাশকের প্রতিক্রিয়া রান্না করার পরেও থেকে যায়। যেহেতু কাঁঁচা মরিচ রান্না করে খাওয়া ছাড়াও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাঁঁচাও খাওয়া হয় সেহেতু ভয় আরও বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, এই ক্ষতিকারক কীটনাশক কাঁঁচা মরিচের সঙ্গে মানবদেহে প্রবেশ করছে। কেননা রান্না করার পরেও এই কীটনাশকের প্রতিক্রিয়া থেকে যায়। এতে লিভার, কিডনি এবং ক্যান্সারসহ জটিল রোগের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব থেকে রক্ষায় বিকল্প হিসেবে সম্মিলিত বালাইনাশক প্রোগ্রামের কথা বলেছেন এই গবেষক। ইতোমধ্যে ফরমেন ফাঁঁদ দিয়ে পোকা দমন শুরু হয়েছে। এটি কৃষকদের মধ্যে আরও বেশি জনপ্রিয় করতে হবে বলেও জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধা কাপ পরিমাণ কুচি কাঁঁচা মরিচে প্রায় ৮০০ ইউনিটের বেশি ভিটামিন এ রয়েছে। আর ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তির জন্য ভালো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সমপরিমাণ কাঁঁচা মরিচ কুচিতে থাকে প্রায় ১৮২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, যা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ভিটামিন সি’র চাহিদার সমান।
কাঁঁচা মরিচে আছে ক্যাপসেইসিন নামের একটি উপাদান। এই ক্যাপসেইসিন প্রদাহ কমায়, বাতব্যথা কমায়, ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। আমেরিকার ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ বলছে, তাজা সবুজ কাঁঁচা মরিচে যে ক্যাপসেইসিন আছে তা ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে।
