নিজ গাড়িতে যাওয়া যাবে ভারত, নেপাল ও ভুটান

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৫, ১৪:৩৯

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে (বিবিআইএন) সড়কপথে পণ্য ও যাত্রীবাহী যান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল সোমবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে চার দেশের যোগাযোগমন্ত্রীরা এই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে যাত্রীবাহী যানবাহন যেমন: বাস ও প্রাইভেটকার এবং পণ্যবাহী যান এই চারটি দেশের মধ্যে চলাচল করতে পারবে। অর্থাত্ বাংলাদেশ থেকে কেউ চাইলে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে কলকাতাসহ ভারতের যেকোনো শহরে যেতে পারবেন, একইসঙ্গে ভারতের ওপর দিয়ে নেপালে বা ভুটানে যেতে পারবেন। চারদেশের মধ্যে এই সংযোগ পরিবহন খরচ কমানোর পাশাপাশি চার দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। গতকাল সই হওয়া চুক্তিটি হলো কাঠামোগত চুক্তি, এরপর এর প্রায়োগিক দিকগুলো নিয়ে পরে প্রটোকল ও মূল চুক্তি হবে। সম্ভাব্য রুটগুলোতে আগামী অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে  যান চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বছরের প্রথমদিকে পরিপূর্ণভাবে যান চলাচল চালু হয়ে যাবে বলে আশা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 
গতকাল ভুটানের থিম্পুতে এই চুক্তিতে চার দেশের যোগাযোগমন্ত্রীরা নিজ দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্যদিকে ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী লিনোপো ডি এন ধুঙ্গিয়েল, ভারতের সড়ক পরিবহন, মহাসড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করি এবং নেপালের ভৌত অবকাঠামো ও পরিবহনমন্ত্রী বিমলেন্দ্র নিধি চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে যোগ দেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনচাই ঝ্যাং। এর আগে ‘বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে যাত্রী, ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য মোটরযান চুক্তি’ নিয়ে রবিবার থিম্পুতে পরিবহন সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়।
 
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা আঞ্চলিক সংযোগের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে আজ একত্রিত হয়েছি। চুক্তির পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, চার দেশের মধ্যে মোটরযান চলাচলের এই চুক্তিটি বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে কার্যকর সব পরিবহন চুক্তি ও ব্যবস্থাগুলোর সম্পূরক হবে, যেগুলো চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সব পক্ষ মেনে চলবে। এই চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে ‘বিবিআইএন মোটরযান চলাচল চুক্তি’র বিধান অনুযায়ী তা নিষ্পত্তি করা হবে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চুক্তিটি সইয়ের পর লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করে চার দেশের পরিবহনমন্ত্রীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
 

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ এন সিদ্দিক বিবিসিকে জানান, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে যেমন, তেমনি ভারত, নেপাল বা ভুটানেরও কোন পর্যটক তাদের নিজস্ব গাড়ি নিয়ে বা বাসে চড়ে বাংলাদেশে বেড়াতে আসতে পারবেন। অবশ্য এজন্য রুট পারমিট দরকার হবে। প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে এই রুট পারমিট নিতে হবে, আর নিয়মিত যাতায়াত করবে এমন বাস বা পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ মেয়াদের জন্য রুট পারমিট পাওয়া যাবে।