বাংলাদেশ তাজিকিস্তান ম্যাচ আজ

মুখে সাহস অন্তরে ভয়

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৫, ০২:৪৪

কিরঘিজস্তান এবং তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে ২০১৮ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম দুটি খেলা নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলার, সংগঠক ও সমর্থকদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের পর জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা হতাশ করে চলেছে। বাস্তবতার সাথে মিল নেই ফুটবল মাঠের ছবির। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্য দেশগুলো যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেরকম অগ্রগতি নেই এমিলি, মামুনুলদের ফুটবল চর্চায়। প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুর, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আশা জাগিয়েও যেভাবে তারা মুখ থুবড়ে পড়লো তা নিয়ে হতাশ হননি অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছিলেন ১১ জুন কিরঘিজস্তানের বিরুদ্ধে বোমা ফাটাবেন। বোমা ফাটাবেন কি উল্টো ১-৩ গোলের হারে চুপসে গেছে সে স্বপ্ন। পুরো দলটাই বাজে ফুটবল খেলেছে। কোচ তাদের এক রকম শিখিয়ে-পড়িয়ে মাঠে নামান তো খেলা হয়ে যায় আরেক রকম।

 
কিরঘিজস্তানের বিরুদ্ধে বাম হাঁটুতে চোট পাওয়ায় এ ম্যাচে থাকছেন না ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধুরী। নিষেধাজ্ঞার কারণে সাইড লাইনে থাকতে পারবেন না কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফও।
 
অথচ গ্রুপ পর্বে এ দুটি দল ছাড়াও আছে জর্ডান, অস্ট্রেলিয়া। একটি করে খেলা শেষে জর্ডান ও কিরঘিজস্তান তিন পয়েন্ট পেয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে। ‘বি’ গ্রুপে আজ অস্ট্রেলিয়া নিজ মাঠে কিরঘিজস্তানকে আতিথ্য দেবে। তখন পরিস্থিতি আরো বদলাবে।
 
বাংলাদেশের ফুটবলারদের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার কথা বলা হলেও কিরঘিজস্তানের বিরুদ্ধে বাস্তবে তা হয়নি। বক্সের সামনে ভুল করা যাবে না। সেটপিসের সুযোগ দেয়া যাবে না। কিন্তু মাঠে সব ভুলভাল হয়ে যায় তাদের। যে ভুল করা যাবে না সেই ভুলই করেছেন ফুটবলাররা। হেমন্ত একটা ভুল করেই গোল খাইয়ে দেয় বাংলাদেশকে। হেমন্ত সেই ম্যাচে ১৭টা ভুল পাস দিয়েছে। সোহেল রানা একটা বলও জায়গা মতো ফেলতে পারেননি। সেটপিস থেকে যে গোলটা হয়েছে তা ঠেকাতে দেয়া প্রতিরক্ষা দেয়ালটা নিয়ে কোনো কাজে আসেনি। দীর্ঘদেহী ফুটবলাররা দাঁড়াবেন দেয়ালের শুরুতে। কিন্তু সেটা হলো কোথায়। গেম প্ল্যান নিয়ে নানা প্রশ্ন তো ছিলই। খেলোয়াড় পরিবর্তন নিয়েও অনেক কথা হয়েছে।
 

কিরঘিজস্তান এবং তাজিকিস্তান নিয়ে ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য উতরাতে প্রথম পরিকল্পনা ছিল। নিজেদের মাঠে এ দুটি ম্যাচে ভালো করতে পারলে নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম পরীক্ষায় নেমে সেটা হয়নি। বাজে পারফরম্যান্স করে সমালোচিত হয়েছেন ফুটবলাররা। তিন দিন না কাটতেই আজ বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তাজিকিস্তান বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। এ দলের বিরুদ্ধে হারলে বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়ে যাবে ঠিকই; তারপরও অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম মনে করছেন এখনও ম্যাচ আছে। তার কণ্ঠে জোর আছে, জোর আছে কোচ লুডউইক ডি ক্রুইফের কণ্ঠেও যে কারণে এ দু’জনই বলছেন ম্যাচটা জিততেও পারে বাংলাদেশ। যদি বাংলাদেশের পক্ষে থাকে আজকের দিনটা। মুখে সাহস থাকলেও অন্তরে আছে ভয়। ভয়ের আভাস দিয়ে বললেন ওরা অনেক বড় দল। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। ক্রুইফ বাংলাদেশের দর্শকদের আজ মাঠে আসতে বলেছেন খেলা দেখতে। দর্শক যদি স্টেডিয়ামে আসে, তাহলে তারা কী দেখবে? হার, ড্র, নাকি ম্যাচ জয়। এমন প্রশ্নে ক্ষেপে গিয়েছেন ডাচ এই কোচ। বললেন, ‘ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে আমি কি করে বলবো কি হতে পারে ম্যাচে।’ ক্রুইফ কাজ করছেন দেশের ফুটবলের জন্য কিন্তু ফল আসছে কোথায়। এই দেশের ফুটবলে যদি হোসে মরিনহো কিংবা পেপ গার্দিওয়ালাকেও আনা হয় তারপরও এদেশের এমিলিদের পায়ের কাজ দেখা যাবে না। কারণ এদের কোনো প্রতিভা নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে লড়াই করার মতো সেই যোগ্যতা নেই। দূর থেকে গোল করাতো দূরের কথা। গোল লাইনে দাঁড়িয়েও জালে বল জড়াতে গিয়ে এমিলিরা মাটিতে গড়িয়ে পড়েন। এ ব্যাপারগুলো সহজে বলতে পারছেন না ক্রুইফ। বললে তো নিজের চাকরিটা থাকে না। নতুন প্রতিভা খুঁজে গড়ে তুলতে হবে ফুটবলারদের। তার আগ পর্যন্ত বর্তমান খেলোয়াড়দের নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে লড়াই করতে হবে। তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পেছনের সব কিছু ভুলে যেত চান মামুনুলরা। নতুন করে লড়াই করার শপথ দেশ সেরা এই ফুটবলারদের।