আতংকে দিন কাটছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরার (ডিএনডি) লাখ লাখ বাসিন্দার। গত ৭ দিনে একইঞ্চি পানিও হ্রাস না পাওয়ায় এবং আষাঢ়ের শুরু থেকেই অনবরত বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে ধারণা করছে ভুক্তভোগীরা। প্রতিবছরই জলাবদ্ধতায় নানা দুর্ভোগ নিয়ে বসবাস করছে ডিএনডিবাসী। এর সমাধানে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে ভুক্তভোগীরা। পানি নিষ্কাশন খালে শিল্প ও আবাসিক বর্জ্য, কোথাও কোথাও নিষ্কাশন খাল বেদখল বা ভরাট হয়ে যাওয়া এবং ৫০ বছরের পুরোনো পাম্প দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ছে ডিএনডিবাসী।
জানা যায়, ১৯৬৫-৬৮ সালে ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) ইরিগেশন প্রজেক্ট নির্মিত হয়। ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধের (ডিএনডির) অভ্যন্তরে শুষ্ক মৌসুমে সেচ প্রদান এবং বর্ষা মওসুমে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য সেচ খাল ৯টি, ডিটিও খাল ৯টি, আউট লেক খাল, এবং ১০টি নিষ্কাশন খাল রয়েছে। এছাড়াও এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইনটেক খাল, ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মেইন ক্যানেল টার্ন আউট খাল রয়েছে। এসব খাল দিয়ে জমিতে সেচ দেয়া ও পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রতিটি ১২৮ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি পাম্প রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল পাম্প হাউজে নিয়মিত এসব পাম্প চালু থাকলেও গত ৭ দিনে একইঞ্চি পানিও কমেনি। নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় এবং বেদখল হওয়া নিষ্কাশন খালে পানি না যাওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। এরফলে আষাঢ়ের মাঝামাঝিতে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশংকা করছে বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীরা জানায়, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, মিল, কল-কারখানা, ব্যাংক-বীমা, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা নির্মিত হওয়ায় ডিএনডির পানি নিষ্কাশনের বেশির ভাগ খাল বেদখল হয়ে গেছে। এ খালগুলো দিয়ে ডিএনডির অভ্যন্তরের বসত-বাড়ি, রাস্তা-ঘাটে বর্ষায় জমে থাকা পানি প্রধান নিষ্কাশন খালে যেতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রতিবছরই লাখ লাখ লোক জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছে।
গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে ডিএনডির অভ্যন্তরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি, ধনকুন্ডা, পাঠানটুলি, দক্ষিণ কদমতলী নয়াপাড়া, পশ্চিম কদমতলী, মিজমিজি, সাহেবপাড়া, পাইনাদি, কালাহাতিয়ারপাড়, সিআইখোলা, পাইনাদী নতুন মহল্লা, মজিববাগ, কুতুববাগ, রসুলবাগ, নিমাই কাসারী, বাগমারা, পশ্চিম সানারপাড়, ডেমরার মাতুয়াইল, মৃধাবাড়ি, কোনাপাড়া, আমবাগান, যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া, রায়েরবাগ, টেংরা, বকসনগরসহ বিভিন্ন এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। হাঁটুপানির নিচে রয়েছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব এলাকার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, স্যুয়ারেজের পানি মিশে একাকার হয়ে গেছে। প্রয়োজনের তাগিদে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি দিয়েই যাতায়াত করায় পানিবাহী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই।
শিমরাইলস্থ পাম্প হাউজে সারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল আসেন তার অভিযোগ জানাতে। এসময় তিনি জানান, সারুলিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থান পানিতে ডুবে আছে। পাম্প হাউজের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার জানান, ১২৮ কিউসেক পানি নিষ্কাশন ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি পাম্প বর্তমানে সচল রয়েছে। তিনি আরো জানান, চারটি বড় পাম্পের পাশাপাশি পাঁচ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন আরো ২২টি পাম্প রয়েছে। নিষ্কাশন খালে পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য না থাকলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হতো। এসময় তিনি ডিএনডিবাসীদের খালে পলিথিনসহ বর্জ্য না ফেলতে এবং জলাবদ্ধতা নিয়ে আতংকে না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।