খালেদার অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি মিথ্যাচার করেছেন

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৫, ০১:০৩

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠক সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি নাকি মোদীর সঙ্গে তার (খালেদা জিয়ার) সাক্ষাত্কারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলাম। ভারতীয় একটি পত্রিকাকে বেগম জিয়ার দেয়া সাক্ষাত্কারে এমন অভিযোগের নিন্দা জানাই। কারণ এটি মিথ্যাচার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

 
এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, ‘আমি বেগম জিয়ার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিযোগের নিন্দা জানাই। তিনি সব সময়ই নািস প্রচার প্রধান গোয়েবলসের মিথ্যাচার কৌশলের একনিষ্ঠ অনুসারী। তিনি মনে করেন যে, মিথ্যাকে বারবার বললেই সত্য হয়ে যায়। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ও তার দল ধরা খেয়ে যায়।’ অতীত উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালের বিজয় দিবসের আগে ১৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশ শত্রুমুক্ত হলেও অপশক্তির নীলনকশা বাস্তবায়নে শত্রুদের চক্রান্ত আজও বিদ্যমান। আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব শক্তিকে গ্রাস করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত।’ আমি বেগম জিয়ার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, ‘এই আধিপত্যবাদী শক্তির নাম কী? আর আপনার কথিত এ দেশের চিহ্নিত মহলেরই বা পরিচয় কী? হায় বেগম জিয়া, হায় বিএনপি! আর কত মিথ্যাচার করবেন। ছি ছি।’
 
দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫ জুন আমার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিপন্থি এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদীর সাক্ষাত্ হবে কি না? আমি উত্তরে বলেছিলাম, এ প্রশ্নের আলোচনার সুযোগ এখানে আছে বলে মনে হয় না। আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ বিকৃত করে পরদিন ইত্তেফাকে রিপোর্ট আকারে ছাপা হয়। সেখানে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় খালেদা জিয়ার স্বাক্ষাতের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর ৬ জুন প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে ইত্তেফাকের কূটনৈতিক প্রতিবেদককে এ বিষয়ে আমি প্রশ্ন করি। তখন তিনি জবাবে বলেন, আমি এটা করিনি, বিএনপি বিটের আমার এক কলিগ এটি করেছেন।’
 

মাহমুদ আলী বলেন, এরপর ৮ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এরপরও ৯ জুন ওই প্রতিবেদকের আরও একটি রিপোর্ট বের হয়। সেখানেও বলা হয় ‘বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদীর বৈঠকে হচ্ছে না বলে গত শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এ কথা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।’ মন্ত্রী আরও জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে এর প্রতিবাদ পাঠানো হয়। প্রতিবাদটিও আংশিকভাবে ছাপানো হয়। তার দাবি, ৯ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে মোদীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।