রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসাবে পরিচিত মিরপুর ও পল্লবী থানায় চিহ্নিত খুনি ও চাঁদাবাজরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ গ্রুপের হাতে গত এক মাসে গৃহবধূ, ওষুধ ব্যবসায়ীসহ ৫ জন খুন হয়েছেন। এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না ফুটপাতের দোকানদার থেকে শুরু করে টেম্পু শ্রমিকরা পর্যন্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এসব সন্ত্রাসী শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত ও কিলার আব্বাসের সহযোগী। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহাদাত বর্তমানে পলাতক ও আব্বাস কারাগারে রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, পুলিশ ও র্যারের তত্পরতার কারণে এসব সন্ত্রাসী এলাকায় থাকলেও তাদের তত্পরতা খুব একটা ছিল না। সম্প্রতি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে পরিবর্তন হওয়ায় তারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এ গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে মাহবুব আলী টিংকু ওরফে বিহারী টিংকু, রব, বদরুল আলম জামিল ও হান্নান। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। এদের মধ্যে বিহারী টিংকুর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা কাজী আলী ইমামের বডিগার্ড ছিল টিংকু। একাধিক মামলার আসামি আলী ইমাম বর্তমানে পলাতক।
২০০৯ সালে মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর টিংকু দলবল নিয়ে এলাকা ছাড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার সহায়তায় এলাকায় ফেরে। পাল্টে যায় তার রাজনৈতিক পরিচয়। শুরু করে চাঁদাবাজি। গত চার মাস আগে ফুটপাতের চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনে বিহারী টিংকুর হামলায় আহত হন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাতিজা। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বিহারী টিংকু ও রব শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাসের সহযোগী। তাদেরসহ অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। সন্ত্রাসী যে দলের হোক, যতই শক্তিশালী হোক, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
মিরপুর ১০ নং সেকশনের একজন দোকানি জানান, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্কর ও আশপাশ এলাকার সব দোকানদার এ গ্রুপের হাতে জিম্মি। প্রাণের ভয়ে কেউ টু শব্দটি করে না। স্থানীয় তিন থানা (মিরপুর-কাফরুল-পল্লবী) পুলিশের সঙ্গে এদের রয়েছে সুসম্পর্ক। তারা থানার পুলিশকে ম্যানেজ করেই ফুটপাত ও টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করে। এ নিয়ে একাধিক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করে উল্টা নিজেদের বিপদই ডেকে এনেছেন।
ডিএমপি মিরপুর বিভাগের একজন পুলিশ কর্মকর্তা এসব সন্ত্রাসী তত্পরতার কথা স্বীকার করে বলেন, পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ের ফলে সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়েছিল। তাদের অনেকেই আবার ফিরতে শুরু করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে: গালকাটা বাবু, রইস সুমন, ঝুট মন্টুর ছেলে বাপ্পি, রুবেল, লিটন, আসাদ, জহির, আসলাম, টুটুল, চুন্নু ও সুমন।
গত ১৩ মে পল্লবীতে ফ্ল্যাট বাড়িতে খুন হন ডেসকোর প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও মামা। ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। তবে জাহিদুল ইসলামের দাবি চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা তার স্ত্রী ও মামাকে হত্যা করেছে। সর্বশেষ ১০ জুন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ওষুধ ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম রাসেল। নিহতের পরিবারের দাবি চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা রাসেলকে হত্যা করেছে।
বিশেষ অভিযান: এদিকে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মহানগর ডিবি ও থানা পুলিশ।
