যে ভুল করবো না বলে শপথ ছিল মামুনুলদের, আবারো সেই ভুলেই নিশ্চিত জয় পেলো না বাংলাদেশ। ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও নিজ মাঠে বাংলাদেশ যে তাজিকিস্তানের সাথে ড্রয়ে বাধ্য হলো তা মূলত এমিলির ভুলেই।
বাংলাদেশ গতকাল মঙ্গলবারের খেলাটিতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে। মামুনুল, জুয়েল রানা, জামাল ভুঁইয়া, নাসিরুল, তপু বর্মন, ইয়াসিন খান, হেমন্তরা টিম বাংলাদেশ হয়েই খেললো। বাংলাদেশের গোলটা এমিলির নামে হলেও তার খেলা ছিল ‘সুপার ফ্লপ’। অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম ফ্রিকিক করেন। সবার মাথার উপর দিয়ে বলটা তাজিকিস্তানের জালে ঢুকে যাচ্ছে। এমিলি শুধু পা ছুঁয়ে দেয়ায় কোরিয়ান রেফারী বাধ্য হয়ে মামুনুলের গোলটা এমিলির নামে লিখতে বাধ্য হলেন ১-০। তারপরও ফুটবল দর্শকরা এমিলিকে উত্সাহ দিলেন। গোলের জন্য আরো মরিয়া হতেও হাততালি দিচ্ছিলেন। এমিলিকে জুয়েল রানা গোলের বল বাড়ালেন। গোল করার মতো জায়গায় বল পেয়েছিলেন স্ট্রাইকারটি। সময় নিয়েই গোল করা যেতো। কিন্তু এমিলি মারলেন বাইরে। সেটপিসে মামুনুল বিশেষজ্ঞ। কিন্তু মামুনুলকে সরিয়ে ফ্রিকিক নিলেন এমিলি। যদিও বলটা তাজিকিস্তানের পোস্টেই রাখতে পারেননি। এনামুলকে আরো আগে নামালে হয়তো বাংলাদেশের আক্রমণভাগ আরো শক্তিশালী হতো। গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগানো যেতো। কিন্তু সেটা হয়নি। এমিলি বল পেলেই প্যারালাল নয়তো ব্যাক পাস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন। ভোতা স্ট্রাইকিং জোন নিয়ে বাংলাদেশ যেন ১০ জন নিয়ে খেলছিল। বাংলাদেশ কাল ৫০ মিনিটে এগিয়ে গিয়েও ৮৭ মিনিটে গোল হজম করলো সেটপিস থেকে। এমিলি বক্সের উপরে অহেতুক ফাউল করেন। বিনা প্রয়োজনে তাজিক ফুটবলারকে ফাউল করে দলকে বিপদে ঠেলে দিয়েছেন তিনি। সেটপিস থেকে গোল করে ফতুল্লভ তাজিকিস্তানকে নিশ্চিত হার থেকে রক্ষা করেছেন ১-১। কেন ফাউল করতে গেলেন সে কারণে মামুনুলরাও তাকে কটু কথা শুনিয়েছেন মাঠে।
এমিলির অমার্জনীয় ভুলগুলো বাদ দিলে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল অপ্রত্যাশিত। কিরগিজস্তানের বিরুদ্ধে বাজে খেলে ফুটবলাররা সমালোচনার মুখে পড়েছিল। তাই খেলোয়াড়রা শক্তিশালী তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ভুল করা যাবে না বলে শপথ নিয়েছিলেন। এদিন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল বাংলাদেশ দল। জুয়েল রানাকে দিয়ে বাংলাদেশ আক্রমণ শুরু করেছিল। খেলার সে াত দেখে বাংলাদেশের দর্শকদের মনে উঁকি দিচ্ছিল জয়। আরো গোলের হাতছানিও পাচ্ছিলেন। ৩৫ মিনিট পর্যন্ত বলা চলে বাংলাদেশের গোলকিপার লিটনকে বল ধরতে হয়নি। চারটা কর্নার পেয়েছে বাংলাদেশ। একবারও দলের স্ট্রাইকারকে মাথা লাগাতে দেখা গেলো না। ম্যাচের প্রথম সেটপিসও পেয়েছিল বাংলাদেশ। সবদিক থেকেই দিনটা বাংলাদেশেরই ছিল। কিন্তু ম্যাচ জয়ের যে সুযোগটা ছিল তা শেষ হয়ে গেলো শেষ পাঁচ মিনিটে।
স্বাগতিকরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই ৫০ মিনিটে গোল আদায় করলো। এরপর ৬৭ মিনিটে লালকার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন তাজিকিস্তানের আসরভ সিওভুস। তিনি হেমন্তকে পেছনে থেকে টেনে ফেলে দেয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে লালকার্ড পান। ১০ জনের তাজিকিস্তানকে পেয়ে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে আরো চাঙ্গা হওয়ার কথা। তা না হয়ে রক্ষণাত্মক খেলছেন মামুনুলরা। স্ট্রাইকার এমিলি তাজিকিস্তানের গোল মুখে কিছু করতে পারছিলেন না বলে তাকেও নিচে নামিয়ে আনা হয়। ১০ জনের বিরুদ্ধে ১১ জনের ডিফেন্সিভ ফুটবল আরো বিপদেই ঠেলে দিলো বাংলাদেশ।
সহকারী কোচ টিটুর কথায় মনে হলো এটা নাকি তাদের কৌশল। পাল্টা আক্রমণে গোল করবেন। তাজিকিস্তানের কাছে ড্র ম্যাচের চেয়েও এটা জয়। কারণ হেরেই যাচ্ছিল দলটা। সেখান থেকে ড্র করে জেতার সুযোগও এসেছিল। গোলকিপার লিটন দারুণ একটা সেভ দিয়েছিলেন বলে রক্ষা। এমিলি গোল করার মতো সুযোগ পেয়েছিলেন। তাজিকিস্তানের ৩৯ বছর বয়সী বুড়ো গোলকিপার এবং অধিনায়ককে পেয়েও গোল করতে পারেনি।
কিরগিজস্তান এবং তাজিকিস্তান ম্যাচ দুটিতে বাংলাদেশ পয়েন্ট পাবে, এমন প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু এই দুই ম্যাচে বাংলাদেশ পেলো মাত্র এক পয়েন্ট। এখন তাদের মাঠ থেকে পয়েন্ট আনা কঠিনই না অসম্ভবও হতে পারে। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ দল
লিটন, রায়হান, তপু বর্মন, নাসিরুল ইসলাম, ইয়াসিন খান, জামাল ভুঁইয়া, মামুনুল ইসলাম, জুয়েল রানা (এনামুল), সোহেল রানা, হেমন্ত, এমিলি। রেফারী ঃ লী মিন হু (দক্ষিণ কোরিয়া)।
