নাইকো মামলা বাতিলে খালেদার আবেদনের রায় আজ

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৫, ২৩:৪৪
নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করে দিয়েছেন। এর আগে গত ২৮ মে এই মামলা বাতিলের আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হলে হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট দিন ধার্য না করে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। ২০ দিন পর মামলাটির ওপর রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করে দিয়েছে আদালত।
 
এদিকে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা বাতিলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের দায়ের করা পৃথক দুটি আবেদনের ওপর শুনানি গতকাল শেষ হয়েছে। তবে বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি আব্দুর রবের ডিভিশন বেঞ্চ সুনির্দিষ্ট দিন ধার্য না করে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ও রাগীব রউফ চৌধুরী এবং দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন।
 
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুদক। পরে তদন্ত শেষে খালেদা জিয়া ও তার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানিকে (গ্যাটকো) পাইয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মামলাটি জরুরি ক্ষমতা বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত ও দুদকের অনুমোদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে পৃথক দুটি আবেদন দায়ের করেন। ওই আবেদনের ওপর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে। প্রসঙ্গত এই মামলার আসামিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভুইয়া ও খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছেন।
 

এদিকে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর নগরীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে।