ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর নিজেই রোগাক্রান্ত। অধিদফতরের বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড় সমান অভিযোগ। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে ওষুধ খাতের দুর্নীতি রুখবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দেশে প্রায় ৮শ’ ওষুধ উত্পাদক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অ্যালোপ্যাথিক প্রতিষ্ঠান ২৭৭টি। বাকিগুলো হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, ইউনানিসহ নানা ধরনের ওষুধ উত্পাদন করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের গুণগতমান তদারকির দায়িত্ব ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটির মান নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন । সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজাতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কাজের কাজ কিছুই হবে না।
জানা যায়, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অধিকাংশ কর্মকর্তা তদারকির নামে দাদন ব্যবসা করছেন। অবৈধ ওষুধ বিক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিচ্ছেন। ঢাকার বাইরের চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। তবে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির কিছু দৃশ্যমান কার্যক্রম রয়েছে।
এই অবস্থায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মান নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম যতোদিন ঠিক হবে না ততোদিন ওষুধের মানও ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে তদারকি হয় কেবল অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের। এছাড়া হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানিসহ প্রায় ৫শ’ প্রতিষ্ঠানের তদারকি একেবারেই হয় না বললেই চলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘুষের টাকার ভাগ মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। মন্ত্রণালয়ের একশ্রেণির কর্মকর্তা এই টাকার ভাগ পায়। যার কারণে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা কিংবা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও কিছুই হয় না।
এই প্রসঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে সদ্য যোগদান করা মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিবেশ, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
