আগুয়েরো জেতালেন আর্জেন্টিনাকে

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৫, ০১:৪৯

সার্জিও আগুয়েরোর নৈপুণ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে চলতি এবারের কোপা আমেরিকায় প্রথম জয় নিশ্চিত করেছে শিরোপা প্রত্যাশী আর্জেন্টিনা। ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষটির বিপক্ষে ‘প্রতিশোধের’ ম্যাচে দলের হয়ে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন আগুয়েরো। টুর্নামেন্টের গত আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে এই উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে হতাশ হতে হয়েছিল স্বাগতিক আর্জেন্টিনাকে। চিলির লা সেরেনায় ঐ প্রতিশোধটাই নিল আর্জেন্টিনা। এর মধ্য দিয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করল কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর দল। গ্রুপের অপর খেলায় জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। 

 
বাংলাদেশ সময় গতকাল ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা-উরুগুয়ের ১৯৯তম মুখোমুখিতা ছিল। আগুয়েরো দ্যুতিতে লড়াইটিতে জয় হলো আর্জেন্টাইনদেরই। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে কোচ মার্টিনোর দলের দুর্দান্ত গোলটি করেন এই তারকা স্ট্রাইকার। চলতি টুর্নামেন্টে এটি এই ম্যানচেস্টার সিটির তারকার দ্বিতীয় গোল। এর আগের খেলায়ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দারুণ একটি গোল করেছিলেন তিনি।
 
খেলা শেষে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি বলেন, ‘তাদের (উরুগুয়ে) জন্য কঠিন একটি ম্যাচ ছিল। কিন্তু তারা আশানুরূপ খেলতে পারেনি। তারা শক্তিশালী দল এবং তারা আমাদের প্রতি কঠোরভাবে আবির্ভূত হয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখিয়েছি, প্রয়োজনের সময় ঐ ধরনের খেলা আমরাও খেলতে পারি। আমরা কেবল আমাদের খেলাটা খেলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি এবং স্বাভাবিক খেলা খেলেই আগুয়েরোর মাধ্যমে গোলটি পেয়েছি।’
 
খেলার তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনারই আধিপত্য ছিল। যদিও এই সময়ে উরুগুয়ের রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। খেলার শুরুর দিকেই এগিয়ে যেতে পারত মেসিরা। নবম মিনিটে জাভিয়ের পাস্তুরের বাড়ানো বলে বক্সের ডান দিক থেকে নেয়া অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার শট সহজেই রুখে দেন উরুগুয়ে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। একটু পর ডি মারিয়ার আরেকটি শট পোস্টের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে হতাশ হতে হয় সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতা দলটিকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরো একটি সুযোগ তৈরি করেন আগুয়েরো। মেসির ক্রস থেকে হেড নিলেও একহাতে দারুণভাবে প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ করে দেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক। এমন পরিস্থিতিতে খেলার ৩৮তম মিনিটে আর্জেন্টিনার কোচ মার্টিনোকে লাল-কার্ড দেখান ব্রাজিলিয়ান রেফারি সান্দ্রো রিচি।
 
আক্রমণে গিয়ে গোল না পেলেও সার্জিও আগুয়েরো ও মেসিরা কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগকে সব সময় ব্যতিব্যস্ত করে রাখে। উরুগুয়ে একাদশে তারকা ফরোয়ার্ড এডিনসন কাভানি থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে বাইরে থাকা লুই সুয়ারেজের অভাব ছিল স্পষ্ট।
 
২০তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রড্রিগেসের ক্রসে শেষ মুহূর্তে দিয়েগো রোলান মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়দের এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগটি নষ্ট হয়। ২৯তম মিনিটে আরেক দফা বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ের ম্যাক্সি পেরেইরার ক্রসে রোলান হেড করলেও তা অল্পের জন্য জাল খুঁজে পায়নি।
 
মুহুর্মুহু আক্রমণে যাওয়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য আরো মরিয়া হয়ে ওঠে। এর জের ধরেই ৫৫তম মিনিটে সাফল্যের মুখ দেখে তারা। প্রতিপক্ষের বক্সের বাইরে থেকে মেসি-পাস্তুরে হয়ে বল যায় ডান দিকে থাকা পাবলো সাবালেতার কাছে। ম্যানচেস্টার সিটির এই ডিফেন্ডারের মাপা ক্রসে উড়ন্ত হেডে গোলরক্ষক মুসলেরাকে পরাস্ত করেন ক্লাব সতীর্থ আগুয়েরো।
 
এগিয়ে যাওয়ার খানিক পরই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিলেন আগুয়েরো। মাঝমাঠ থেকে একাই আক্রমণে যাওয়া আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি এসে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ৭৫তম মিনিটে উরুগুয়ে সমতা ফেরানোর দারুণ একটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। বাকি সময়ে এই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
 

এই পরাজয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা উরুগুয়ের জন্য অনেকটা কঠিন হয়ে গেল। পরের রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় প্যারাগুয়েকে হারাতেই হবে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ খেলায় আর্জেন্টিনা খেলবে তুলনামূলক কম শক্তিশালী জ্যামাইকার সঙ্গে।—এএফপি