এমন দৃশ্য মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম এর আগেও দেখেছে।
মুশফিকুর রহিম তখন মাত্র দলে ঢুকেছেন। এই মাঠের সেন্টার উইকেটে তাকে কিপিং অনুশীলন করাতে ব্যাট হাতে নিয়ে ছায়া ব্যাটিং করেছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলট।
ক্রিকেটের বোধহয় একটা নিজস্ব চক্র আছে!
সেই চক্রে আবার ফিরে এলো দৃশ্যটা। এবার পাইলটের জায়গায় ব্যাট হাতে ছায়া ব্যাটিং করতে দাঁড়ালেন লিটন দাস। আর উইকেটের পেছনে সেদিনের কিশোর, আজকের টেস্ট অধিনায়ক সেই মুশফিকুর রহিম।
এই অনুশীলন একটা ইঙ্গিত পরিষ্কার করলো যে, আজকের ম্যাচে কিপিংটা গত প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা মুশফিকুর রহিমই করবেন। তবে ভেতরের খবরাখবর বলছে, লিটন দাসও থাকবেন একাদশে। সেই সঙ্গে ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যেতে পারে বাঁহাতি তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানেরও।
লিটন দাসের একাদশে খেলার ইঙ্গিত অধিনায়ক তার সংবাদ সম্মেলনেও দিয়ে গেলেন। ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত মাহমুদউল্লাহর জায়গায় একাদশে একটা পরিবর্তন আনতেই হবে। মাশরাফির কথা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইতিমধ্যে টেস্ট অভিষেক হয়ে যাওয়া লিটনেরই সম্ভাবনাটা বেশি, ‘রিয়াদের জন্য খুব খারাপ লাগছে। ও আসলে এতো ভালো ফর্মে ছিলো! বিশ্বকাপে ও আমাদের অন্য একটা মাত্রায় নিয়ে গেছে। ওর ব্যাটিংটা আমরা মিস করবো। তবে লিটন তৈরি আছে। ও টেস্ট অভিষেকে ভালো করেছে। আর ওর ব্যাটিংটা শর্টার ফরম্যাটে আরও মানানসই বলে মনে হয়। তবে আমরা সেরা একাদশ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি।’
লিটনের অবশ্য আরও প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন।
মুমিনুল হক অপেক্ষায় আছেন ওয়ানডেতে আবার নিজের জায়গাটা ফিরে পাওয়ার। টেস্টে বাংলাদেশের সমকালীন সেরা এই ব্যাটসম্যান ওয়ানডেতে এখনও থিতু হতে পারেননি। যদিও তার ওয়ানডে রেকর্ড নিতান্ত খারাপ নয়। তারপরও শুরুর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং সবসময় পাওয়া যায় না বলে একটু ব্রাত্য হয়ে আছেন তিনি। লিটনের টপঅর্ডারে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা রনি তালুকদারও। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের তুখোর এই পারফরমারকে সম্ভবত এই ম্যাচটাও দর্শক হিসেবে দেখতে হচ্ছে।
লিটনের অভিষেকটা একরকম নিশ্চিত হলেও মুস্তাফিজের তা নয়।
টি-টোয়েন্টি অভিষেকে রীতিমতো চমকে দেয়া মুস্তাফিজ তার বাঁহাতি পেস দিয়ে যে তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন, এটা অধিনায়কও মানছেন। তিনিও বার বার বললেন, ‘মুস্তাফিজ একটা চমক হতে পারে। ওর যে গতি, সুইং তাতে ও বিশ্বের যে কোনো ব্যাটসম্যানকে চমকে দিতে পারে।’
কিন্তু মুশকিলটা হলো, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের তিন পেসার মাশরাফি-তাসকিন-রুবেল ওয়ানডেতে একটা দারুণ ত্রয়ী হয়ে উঠেছেন। অধিনায়ক মাশরাফি নিজে ফিট আছেন, পরিষ্কার করলেন যে, তার খেলা নিয়ে সংশয় নেই। সে ক্ষেত্রে রুবেল ও তাসকিনের কাউকে একাদশের বাইরে রাখাটা কঠিনতর এক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তারপরও এমন সম্ভাবনা আছে যে, রুবেলের বদলে মুস্তাফিজ চমকে দিতে পারেন।
তবে বোলিং আক্রমণ যাই হোক, মাশরাফি তার পেসারদের নিয়ে কিন্তু হুমকি দিতে কসুর করলেন না। সোজা বলে দিলেন, তার যে পেস আক্রমণ তা দিয়ে কোনো ব্যাটিং লাইন আপকে ধ্বংস করে দিতে পারেন তারা, ‘আমরা সবকজন পেসার দারুণ ছন্দে আছে। অসাধারণ বল করছে তারা। আমি মনে করি, আমার হাতে যে পেস অ্যাটাক আছে, তা দিয়ে দুনিয়ার যে কোনো ব্যাটিং লাইনআপকে ধ্বংস করে দিতে পারি।’
পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ-ভারত ওয়ানডে
ম্যাচ ভারত জিতেছে বাংলাদেশ জিতেছে ফল হয়নি
সবমিলে ২৯ ২৫ ৩ ০১
বাংলাদেশে ১৯ ১৬ ০২ ০১
মিরপুরে ১০ ০৮ ০১ ০১
মিরপুরের ওয়ানডে ইতিহাস
ম্যাচ জয় (প্রথমে ব্যাট করা দল) জয় (পরে ব্যাট করা দল) ফল হয়নি
সব মিলে ৮৬ ৩৬ ৪৮ ০২
২০১০ থেকে ৬০ ২৬ ৩২ ০২
