যানজটে অচল রাজধানী

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৫, ২১:২৪
 
যানজটে অচল রাজধানী—সড়কে যেন গাড়ি এগোতে চায় না। নগরের এক প্রান্ত থেকে আরেক  প্রান্তে যেতে সময় লাগছে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। মোহাম্মদপুর বা ধানমন্ডি থেকে ফার্মগেট হয়ে উত্তরায় যেতে বেশি সময় লেগেছে। মতিঝিল বা গুলিস্তান থেকে মিরপুরগামী মানুষদের যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাস্তায় গাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে। রমজান শুরুর আগের দিন বৃহস্পতিবার ভ্যাপসা গরমে যানজটে নগরবাসীর জনজীবন নাকালে পরিণত হয়।
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে—সপ্তাহের শেষ দিনে বিকাল থেকে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট ছিল। বিকাল ৪টার পর বৃষ্টির কারণে যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করে। রাস্তায় গাড়ির চাকা যেন ঘোরে না। মতিঝিল থেকে হাইকোর্ট মোড় হয়ে শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট, বিজয় সরনী, মহাখালী, বনানী কাকলি ক্রসিং, জোয়ারসাহারা, খিলক্ষেত ১৪ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশের গাড়ি যেন এগোতে চায় না।
 
অন্য দিকে, শাহবাগ থেকে নিউমার্কেট, কলাবাগান, রাসেল স্কোয়ার, আসাদ গেট, কলেজ রোড, শ্যামলী, কল্যাণপুর হয়ে মিরপুর-১ নম্বর গোল চক্কর হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর সেকশন পর্যন্ত একই অবস্থা। পুরান ঢাকার অবস্থা আরো ভয়াবহ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যারা প্রাইভেট কার নিয়ে রাস্তা বের হয়েছেন তারা বাধ্য হয়ে হেঁটে তাদের গন্তব্যে গিয়েছেন।
 
বিকালে মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকা থেকে ঘরমুখী মানুষ বাস না পেয়ে অনেকেই হেঁটে রওনা দেন। আবার অনেকে টিকিট কেটে বাসে উঠেছেন বাসায় যেতে, তারাও বাধ্য হয়ে হেঁটে বাসায় ফিরেছেন। মতিঝিল থেকে মিরপুর, মতিঝিল থেকে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী যেতে আড়াই ঘন্টা থেকে ৩ ঘন্টা সময় লেগেছে। আবার গুলিস্তান থেকে কাকরাইল মোড় হয়ে মগবাজার দিয়ে গুলশান-১ বা গুলশান-২ এ যেতে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা লেগেছে। যারা উত্তরা বা টঙ্গী, সাভার, গাজীপুর অথবা মতিঝিল থেকে নারায়ণগঞ্জ, কাঁচপুর অথবা কেরাণীগঞ্জ গিয়েছেন তাদের গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লেগেছে।
 
মিরপুরে রোকেয়া সরণিতে  আগারগাঁও থেকে কাজীপাড়া পর্যন্ত অন্যান্য দিনের ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করে। তালতলা, শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বাস থামা ও যাত্রী ওঠা-নামা করায় পুরো সড়কে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে। ধানমন্ডির মিরপুর রোড, নিউমার্কেট, এ্যালিফেন্ট রোড, বেইলি রোড, হাতিরপুল, পান্থপথ, শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ এলাকায়ও একই পরিস্থিতি ছিল।