ব্যবসায়ী ও করদাতাদের সঙ্গে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিরোধে হাজার হাজার মামলার জট লেগে আছে দীর্ঘদিন থেকে। এর ফলে সরকারের বিশাল অঙ্কের টাকা আটকে রয়েছে। নানামুখী উদ্যোগেও এ সব মামলাজট কমেনি। বরং দিন দিন নতুন নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে। এবার এ সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল স্যুট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করতে যাচ্ছে এনবিআর।
এনবিআর বলেছে—মামলাজট কমাতে এটি একটি উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা। ডিজিটাল স্যুট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হলে রাজস্ব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি মামলা জট কমবে। অবশ্য এ সফটওয়্যার কী উপায়ে কাজ করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা এনবিআর দেয়নি। তবে সমপ্রতি এ লক্ষ্যে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে নতুন এ সফটওয়্যার চালুর বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে শিগগিরই প্রতিবেদন দিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও করা হয়েছে।
রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে—আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বিষয়ে প্রায় ২৩ হাজার মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ২৬ হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে বলে দাবি করছে রাজস্ব বিভাগ। এই বিপুল সংখ্যক মামলা পরিচালনার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বর্তমান পদ্ধতিতে দ্রুত মনিটরিং এবং নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় না। ফলে দিন দিন মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অনাদায়ী রাজস্বের পরিমান বাড়ছে।
তিন বছর আগে রাজস্ব সংক্রান্ত এ সব মামলা আদালতের বাইরে সালিশি পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর ব্যবস্থা চালু করেছিল এনবিআর। এ ব্যবস্থায় কয়েকজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী (ফ্যাসিলিটেটর) নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এডিআর পদ্ধতিতে ফ্যাসিলিটেটরের সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষ (রাজস্ব বোর্ড ও করদাতা) একমত হলেই মামলাটি নিষ্পত্তি হতো। অবশ্য এ পদ্ধতিতে মামলাজট কমবে বলে ধারণা করা হলেও কার্যত তা হয়নি।
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকার প্রায় ৩১ শতাংশ বাড়তি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন—এনবিআরের বর্তমান সক্ষমতায় এটি খুবই কঠিন লক্ষ্যমাত্রা।
সাবেক তত্ত্ব্াবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন—এত বড় লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব। কেননা, অতীতে কয়েক বছরে রাজস্ব আদায়ে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ শতাংশ হারে। এ পরিস্থিতিতে সরকার চাইছে মামলায় আটকে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকা থেকে যে কোন উপায়ে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে। এ জন্য মূলত অনাদায়ী ও মামলায় আটকে থাকা রাজস্বই সরকারের জন্য মূল ভরসা। ফলে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এনবিআরকে বিকল্প ভাবতে হচ্ছে।
