বিএনপির ইফতার রাজনীতি

আপডেট : ২০ জুন ২০১৫, ১২:১৭

পবিত্র রমজানে বিএনপির সব মনোযোগ ‘ছত্রভঙ্গ’ নেতা-কর্মীদের পুনর্মিলন এবং দল গোছানোর দিকে। বিগত অবরোধ-হরতালের সময় আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীরা অনেকেই এখন নানা মামলায় ফেরার জীবন যাপন করছেন। গ্রেফতার আতংক ঘিরে রেখেছে তাদের।

 
গোপন ডেরা থেকে বারবার সিম বদলে সেল ফোনে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন নেতারা এখনো। কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বাদে অধিকাংশ নেতাই প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। এমনকি বেগম খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকও ডাকতে পারছেন না। এই অবস্থায় রমজান মাসে ইফতার মাহফিলের মওকায় দলের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে মিলিত হওয়ার একটু সুযোগ পাবেন। যার ফলে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে নিতে পারবেন, যা দল পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।
 
মূলত রমজানে শুরু হচ্ছে বিএনপির ‘ইফতার রাজনীতি’। দলের চেয়ারপার্সনও এই ইফতার কেন্দ্রিক পুনর্মিলনকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি ওমরাহ পালনে পবিত্র মক্কা গমনের পূর্বাবধি অন্তত:১২টি ইফতার মাহফিলে যোগ দিবেন। বিএনপির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলো আলাদা আলাদাভাবে ইফতার পার্টির আয়োজন করবে। জানা গেছে, বেগম জিয়া এসব ইফতার পার্টিতে দলের নেতাদের উপস্থিত থাকতে বলেছেন। যাতে নেতাদের সঙ্গে কর্মীদের দূরত্ব কমে যায়। দলের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা-থানায়ও ইফতার পার্টির আয়োজন করতে বলা হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি থানায় ইফতার পার্টির আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
 
দলের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি রাজপথে সমাবেশ-মিছিল করতে পারছে না। আপাতত সেরকম কোন কর্মসূচিও নেই। এখন বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভেতর যে ম্রীয়মাণ দশা তা থেকে বেরিয়ে আসতে রমজানের ইফতার বড় ভূমিকা রাখবে। এই বিষয়টি বিবেচনা করেই দলের হাই কমান্ড সারাদেশে প্রতিটি শাখাকে ইফতার পার্টি আয়োজনের তাগিদ দিয়েছে। যাতে সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। এই বিষয়ে নির্দেশনা জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের জানান হয়েছে।
 
এদিকে বেগম জিয়া ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রবিবারের ইফতারে দাওয়াত দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া গতকাল রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে আলেম-ওলামা ও এতিমদের সঙ্গে প্রথম রোজায় ইফতার করেন। আত্মগোপনে থাকা বেশ কিছু নেতা-কর্মী সেখান হাজির হন। সোমবার বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির ‘নবরাত্রি’ হলে বিশিষ্ট নাগরিক ও সম্পাদক এবং পেশাজীবী নেতাদের সম্মানে খালেদা জিয়া ইফতার মাহফিল আয়োজন করেছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার পার্টি রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ২৩ জুন অনুষ্ঠিত হবে।
 
এদিকে বেগম জিয়া ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ইফতার পার্টিতে উপস্থিত থাকতে পারেন। ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ইসলামী ঐক্যজোট, লেবার পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনপিপি), ২০ দলীয় জোটের বাইরে ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশের ইফতার পার্টিতে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া যোগ দেবেন। ৩০ জুন রাজনৈতিক ও পেশাজীবীদের সম্মানে লেবার পার্টির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খালেদা জিয়া।
 
২৭ জুন বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আয়োজিত ইফতার পার্টিতে খালেদা জিয়া যোগ দেবেন।
 

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিগত আন্দোলনের সময় সরকারি মামলা-গ্রেফতার ভীতির কারণে বহু নেতা এখনো দল এবং কর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন। তারা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে আছেন। ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের আলোচনার একটা সুযোগ তৈরি হচ্ছে।