ঈদ উত্সব সেমাই ছাড়া পূর্ণতা পায় না। কেবল ঈদে নয় সেমাই সারা বছরই নানা আয়োজনে খাওয়া হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে সেমাই। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ভেজাল সেমাই। প্রতি বছরই অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
জানা গেছে, বিভিন্ন বাসাবাড়ির ছাদে, খোলা জায়গায় শুকাতে দেয়া হয়েছে সেমাই। সেমাইয়ের মধ্যে পাখি মল ত্যাগ করছে। এছাড়া ধুলাবালি আর বিড়ালের অত্যাচার তো আছেই। সেমাই তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ওয়াসার পানি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঈদ সামনে রেখে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ২ শতাধিক কারখানায় সেমাই তৈরি হচ্ছে। এসব কারখানার বেশির ভাগই গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে। এমনকি বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির লেবেল প্যাকেটে লাগিয়ে তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। পুরনো ঢাকার লালবাগ, হাজারীবাগ, কেরানিগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সেমাই কারখানা গড়ে উঠলেও এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে কদমতলী, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মিরপুরসহ আনাচে-কানাচে। লালবাগ এলাকায় রয়েছে শতাধিক কারখানা। এসব কারখানার বেশির ভাগেরই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই।
অধিকাংশ কারখানায় নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরি হচ্ছে। কারিগররাও অপরিচ্ছন্ন। এসব কারখানায় খোলা জায়গায় রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। বাতাসে ধুলা-বালি উড়ছে। এর মধ্যেই বাঁশে সারি-সারি সাজিয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে কাঁচা সেমাই। আবার পোড়া মবিলে ভাজা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই।
এ দিকে যেখানে সেখানে গড়ে ওঠা এসব অপরিচ্ছন্ন সেমাই তৈরির কারখানার কারণে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে রাজধানীর স্বাস্থ্যসম্মত সেমাই তৈরির কারখানাগুলো। প্রকৃত সেমাই কারখানার মালিকদের অভিযোগ, ভেজাল রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। কিছু কারখানায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করলেও শতাধিক ভেজাল সেমাই তৈরির কারখানা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
চিকিত্সকরা জানান, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হওয়া এসব সেমাই খেয়ে বমি, আমাশয়, জন্ডিস, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগ হতে পারে। এছাড়া পাখির মাধ্যমে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ হতে পারে বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিএসটিআই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রমজানে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য ৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে। বিএসটিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভেজাল সেমাই তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করবে।
