গোলটেবিলে বক্তরা

আর্ন্তজাতিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে মানবপাচার বন্ধের আহ্বান

আপডেট : ২১ জুন ২০১৫, ১৭:০৬
 
 
 
মানব পাচারের সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে আর্ন্তজাতিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পাচার বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান করেছেন বিজ্ঞজনরা। তারা বলেন—মানব পাচারের সমস্যা সমাধান করতে হলে সমস্যার কারণ নির্ণয়, দোষীদের আইনের আওতায় আনা, সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারের সমস্যা সমাধানের আন্তরিকতা ও সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে সমঝোতা, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের কী কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কী কী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, তা বের করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তারা।
 
রবিবার  জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘বিদেশে মানব পাচার রোধে বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এ সব কথা বলেন তারা।
 
সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশিস (এনআরবি) এ আলোচনার আয়োজন করে। আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এন আরবির চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রামুর চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী ও লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কাউন্সিল চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান খাদেম।
 
আমন্ত্রিত আলোচক ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের অনুসন্ধান বিভাগের পরিচালক ড. নূর খান, মালয়েশিয়ায় সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. মাসুদ আজীজ, মানব পাচার বিরোধী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি প্রমুখ।
 
২০১০ সালে করা একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, তখন সমুদ্র পথে যাওয়া বিস্তারিত তথ্য আমরা সরকারকে অভিহিত করি। গনমাধ্যমও এই বিষয় অনেক আগে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু সরকারের যতটা সচেতনতা দরকার ছিল তা দেখা যায়নি। এই মানব পাচার রোধে স্থানীয়ভাবে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু দালালদের ধরলে হবে না। দালালদের পেছনে যেসব সরকারী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি রয়েছেন তাদেরকেও ধরতে হবে।
 
তিনি বলেন, মানব পাচার রোধে রাষ্ট্র ,গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ সকলের ভূমিকা আছে। তবে রাষ্ট্র তার ভূমিকা পালন করলেও অন্য সকলের ভূমিকা পালন সফল হয়।
 
তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়ায় জি টু জি পদ্ধতিতে জনশক্তি রপ্তানীর সফল হবে না, আমরা আগেই বলেছি। জি টুজি যদি সফল হতো তাহলে সোভিয়েট ইউনিয়নেই সফল হতো। ভিকটিমদের বিচার হওয়ার কথাও আসছে। এটা দুঃখজনক বলে তিনি অভিহিত করেন।
 
তিনি বলেন, আমার আন্তমন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষনের কথাও জোর দিয়ে বলছি। তিনি বলেন রোহিঙ্গা সমস্যা উপেক্ষা করে মানব পাচার সমস্যা বন্ধ করা যাবে না।
 
এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, সমস্যা সমাধানে বলিষ্ঠ কুটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি। আইন প্রয়োগ কারীদের সকল প্রকার ভীতির উর্দ্ধে উঠে দৃঢ়ভাবে কাজ করার আহ্বান করেন তিনি। এবং যে সকল আইন প্রয়োগকারীদের কর্তব্যে অবহেলা চিহ্নিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন এমন অভিবাসন দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। আমরা একটি বলিষ্ট সুখী রাষ্ট্র হিসেবে দেশকে দেখতে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান করি।
 
ড. নূর খান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায়  পৃথিবীর যে স্থানে আমাদের শ্রম শক্তি কাজে লাগানো যায় সে স্থানে বৈধভাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা জরুরি। যারা মারাগেছে তাদের চিহ্নিত করা,যারা এখনও আছে তাদের ফিরিয়ে আনা, দেশের অভ্যন্তরে এবং অন্যদেশে পাচারকারী যারা চিহ্নিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া, অপরাধের একটি অংশ দেশে ও অপটি অন্য দেশে ঘটেছে বলে প্রয়োজনে নতুন আইন করার ওপর জোর দেন তিনি।